Md Sazu Mia - Md Sazu Mia
SUBTOTAL :

Follow Us

Md Sazu Mia

Md Sazu Mia

Short Description:

Product Description

 


লম্বা চুলের ছেলেছি

সম্পূর্ণ পর্ব

#লেখক_সাখাওয়াত হোসেন ( সাজু) 


© ভৌতিক গল্প  (গল্পটি এডমিনের অনুমতি ছাড়া কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যদি কেউ এডমিনের অনুমতি ব্যতিত গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করে, তাহলে সে “অমানুষ” ও চোর বলে গন্য হবে। কথাগুলো আপনাদের কাছে খারাপ লাগতে পারে, তাই দুঃখিত! কথাগুলো শুধুমাত্র চো-রদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। যাদের কাজই অন্যের গল্প কপি করে পোষ্ট করা)নিত্য-নতুন গল্প পড়তে আমাদের website  ফলো করে পাশেই থাকুন।


গল্পের শুরু এখান থেকে 👇👇

অন্তরা সবেমাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে।

সে তার রুমে বসে টিভিতে খবর দেখছিল। হঠাৎই সে দেখতে পায়,তাদের বাড়ি থেকে কিছু টা দূরে শহরটিতে একটি অদ্ভুত ছেলের সন্ধান পাওয়া গেছে।

 ছেলেটি অন্যান্য ছেলেদের  মতো নয়। 

সে ছেলেটি দেখতে অনেক ফর্সা ও মাথার চুলগুলো ছিল অনেক লম্বা।

 অন্তরা দেখে ছেলেটি  নাকি রাতের বেলা যাকেই একা পাচ্ছে, তাকেই নাকি মে*রে ফেলছে।

 শহরের সব মানুষের মনে এখন আতংক বিরাজ করছে। কেউ এখন রাতের। অন্ধকারে ঘর থেকে বের হবার সাহস পায় না। 

অন্তরা টিভিতে এই খবরটা দেখে ভাবে এরকমও কি হয় নাকি? 

কোনো ছেলে মানুষ আবার মানুষ খু*ন করে কিভাবে!


অন্তরার পরিবারে তার বাবা মা ও তার এক ছোট বোন আছে। 

তার বাবা শহরে ছোট একটা চাকরি করে। অন্তরার মা তার সংসারের কাজ কর্ম সেরে একটু বিশ্রামের সুযোগ পায় না।

 তাই তিনি বিকেলবেলা তার স্বামীকে ফোন দিয়ে বলে আমার সংসারের কাজগুলো করতে সমস্যা হচ্ছে। একদিকে তাদের সংসারে অন্তরা ও তার ছোট বোন রিতা। 

এখন কিছুদিন হলো তাদের ঘরে অন্তরার ছোট বোন জন্ম নিয়েছে।

 তাই ছোট্র মেয়েকে নিয়ে সংসারের সব কাজকর্ম করতে হিমসিম করতে হয়। তাই সে অন্তরার বাবাকে বলে আমাদের বাসায় একটা কাজের বুয়া রেখে দাওনা। অন্তরা বাবার নাম শহিদ। শহিদ বলে ঠিক আছে দেখি আমি কিছু করতে পারি কিনা এই বলে সে ফোনটি কেটে দেয়।


পরদিন অন্তরা স্কুলে যায়। বাসায় তার মা শিউলি। তো সেদিন বাসায় শিউলি একা সাথে তার কয়েক মাসের মেয়ে বাচ্চাটি। আর শহিদ তো অফিসে গেছে। শিউলি দেখতে পায় বাহিরে অনেক বৃষ্টি হচ্ছে। চারপাশে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। আকাশে ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। এটা দেখে সে বাসার জানালা গুলো লাগিয়ে দেয়।

 একা বাসায় একটু একটু ভয়ও করছে। ছোট মেয়ে রিতাকে বিছানায় শুইয়ে রেখে সে কিচেনে রান্না করছিল। 

তখনই বেডরুম থেকে ছোট মেয়েটি মানে রিতার কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। শিউলি দৌড়ে পাশের রুমে গিয়ে দেখে, তার মেয়ের পাশেই একটা অচেনা ছেলে  বসে আছে।

 শিউলি তো প্রথমে ছেলেটিকে দেখে ভয় পেয়ে যায়।সে জিজ্ঞেস করে কে তুমি? 

আর তুমি ঘরে প্রবেশ করলে কিভাবে?

 ছেলেটি বলে আমি সাজু। আপনার বাসায় কাজ করার জন্য আমাকে পাঠিয়েছে।


শিউলি জিজ্ঞেস করে তোমাকে এই বাসায় কাজ করার জন্য কে পাঠিয়েছে? 

সাজু বলে আপনাদের বাসার ভাইজানই তো কথা বলে আমাকে এ বাসায় কাজের জন্য রেখেছে। তখন শিউলি তার স্বামী শহিদকে ফোন দেয়। কিন্তু তখন শহিদের ফোন টি বন্ধ পাওয়া যায়। তাই শিউলি ছেলেটিকর মানে সাজুকে ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। রান্না ঘরের ভেতর নিয়ে সবকিছু সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দেয়। 

সাজু বলে মা আপনি কোনো চিন্তা করবেন না।

 আমি সবকিছু ঠিক ভাবে করে নেব। 

শিউলি তার মেয়েটির কাছে গিয়ে একটু বসে। তাদের বাসার তিনটি রুম আছে। একটাতে শহিদ ও শিউলি থাকে। পাশের রুমে অন্তরা থাকে। সাথের রুমটি সবসময়ই খালি পরে থাকে।

 সেখানে অতিথি আসলে থাকতে দেওয়া হয়। 

তো শিউলি ভাবে সাজুকে সেই খালি রুমটিতেই থাকতে দিবে।

 সাজুকে সবকিছু বুঝিয়ে দিলে সে খালি রুমটিতে চলে যায়।


সন্ধ্যায় শহিদ বাসায় ফিরে। তারা খাবার টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছিল। তখন শহিদ খেয়াল করে তাদের বাসার খালি রুম থেকে ছেলের  কন্ঠ ভেসে আসছে। শহিদ শিউলিকে জিজ্ঞেস করলে,

শিউলি বলে ও তুমি নাকি আমাদের বাসায় কাজের জন্য এই ছেলেটিকে ঠিক করেছো? শহিদ বলে ওহ হ্যাঁ কিছুদিন পূর্বে আমি পরিচিত এক বন্ধুর সাথে এ বেপারে কথা বলেছিলাম। হয়তো সে এই ছেলেটিকে আমাদের বাসায় কাজের জন্য পাঠিয়েছে।

 অন্তরাও প্রথমে ছেলেটিকে এ বাসায় দেখে অবাক হয়েছিল।

 বলা নেই কওয়া নেই হুট করে বাবা কোন ছেলেকে কাজের জন্য বাসায় রেখেছে।

 শহিদ ছেলেটিকে ডাকলে সে আসে। শহিদকে দেখে ছেলেটি সালাম দেয়। 

শহিদ জিজ্ঞেস করে তোমার পুরো নাম কি?ছেলেটি বলে স্যার আমার পুরো নাম মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সাজু মিয়া। শহিদ বলে ঠিক আছে তুমি যাও বলে তারা খাওয়াদাওয়া শেষ করে।


অন্তরাও খেয়ে তার রুমে গিয়ে বই নিয়ে বসে আছে। সে পড়তে বসলে তার মনুযোগ বসে না। সেদিন রাতে সবাই যার যার মতো ঘুমিয়ে পরে। পরিদন সকালে শহিদ প্রতিদিনের মতো অফিসে চলে যায়। আর অন্তরাও স্কুলে যায়। বাসায় তখন শিউলি তার ছোট মেয়ে রিতা ও কাজের ছেলেটি। শিউলি সাজুকে ডেকে কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে এই টাকা থেকে একটা মুরগি ও কিছু শাকসবজি কিনে আনবা। মুরগিটা কেটে নিয়ে আসবা মনে করে। সাজু বলে ঠিক আছে মা।

 তাদের বাসার পাশেই ছোট একটি বাজার। সেখানে সাজু সবকিছু কিনে বাসায় ফিরে। শিউলি দেখে সাজু মুরগির সাথে মুরগির র*ক্ত সাথে করে নিয়ে এসেছে। শিউলি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে কি বেপার তুমি মুরগির র*ক্ত এনেছো কেন? র*ক্ত দিয়ে কি করবে? সাজু বলে মা আমার একটু কাজ আছে। শিউলি বলে র*ক্ত দিয়ে তুমি কি কাজ করবে শুনি।


তখন সাজু বলে মা আমার পায়ে একটা ক্ষত আছে, সেখানে র*ক্ত দিলে সেটি আস্তে আস্তে সেরে উঠে। তাই ওষুধ হিসেবে র*ক্ত দেওয়া লাগে। 

শিউলি আর কিছু বলে না। ঠিক আছে রান্নার কাজ শুরু করে দাও। শিউলি তার মেয়ের কাছে বসে আছে। আর সাজু কিচেনে একা রান্না করছে।

 কিছুক্ষণ পরে  কিচেনে গিয়ে দেখে সাজি রান্না করছে। 

এদিকে শহিদ অফিসে থাকাকালীন সময়ে তার বন্ধুকে কল দেয়। এটা জানার জন্য যে সে কাজের ছেলের কথা বলেছিল।

 কল দিলে নাম্বার টি বন্ধ পাওয়া যায়। শহিদ ভাবে যাক ভালোই হলো ছেলরটি আসাতে সংসারে এখন একটু শান্তি বজায় থাকবে। 

বাসায় ছোট রিতা শুয়ে আছে। তার ঠিক পাশেই শিউলি বসে টিভি দেখছে। তখন শিউলি সাজুকে ডাকে। এই সাজু একটু দেখে যাও তো। 

তোমাকে একটু বাহিরে যেতে হবে। কি একটা জিনিস আনতে সাজুকে বাহিরে পাঠায়।


সাজু বাহিরে চলে গেলে শিউলি বসে দরজাটি বন্ধ করে দেয়। শহিদের বারন আছে,অচেনা কেউ ডাকলে যেন দরজা না খোলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাজু দরজায় নক করে। শিউলি গিয়ে দরজা খোলে দেয়। দেখে সাজু এসেছে। 

শিউলি তাকে আবারো রান্নাঘরে পাঠায়। আর এদিকে শিউলি তার বাচ্চা মেয়েটাকে নিয়ে বিজি। সেদিন বিকালে অন্তরা বাসায় আসে।

 অন্তরা গোসল করার জন্য  ওয়াশরুমে যায়। তখন সে ওয়াশরুমের ভেতর একটা চুল খুজেঁ পায়।

সে চুলটা হাতে নিয়ে দেখে চুলটি অস্বাভাবিক মতো লম্বা। এই বাসায় এতো লম্বা চুল। সে খুবই অবাক হয়। সে তখন সেদিন রাতে টিভিতে দেখা সেই লম্বা চুলের ভয়ানক ছেলেটির কথা ভাবে। চুলটি এতোটাই লম্বা যে,চার ফিট এর মতো লম্বা হবে। অন্তরা চুলটিকে তার সাথে নিয়ে আসে। সে লম্বা চুলটিকে সুন্দর ভাবে গুছিয়ে তার স্কুল ব্যাগের ভেতর ভরে রাখে। 


পরে সে ভাবে এই বাসাতে তো মা আর কাজের ছেলে সাজু ছাড়া আর কেউ নেই।

 তাহলে চুলটি তো মায়ের নয়। কেননা মায়ের মাথায় এতো লম্বা চুল নেই। আর কাজের ছেলে নিরারও তো এতো লম্বা চুল নেই। তাহলে এই বাসার ভিতরে ওয়াশরুমে এতো লম্বা চুল আসলো কোথা থেকে?

 অন্তরা সবসময়ই এই বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। সে তার মায়ের কাছে যায়। মা আমাদের বাসায় কি আজ কেউ এসেছিল? শিউলি বলে না তো বাবা, এ বাসায় তো নতুন করে কেউ আসেনি। 

অন্তরা তার রুমে চলে যায়। সে বই পড়ছে। তখনই পাশের রুম থেকে,মানে কাজের ছেলের সাজুর রুম থেকে আওয়াজ আসে। অন্তরা সেখানে গিয়ে দেখে সাজু তার চুল আচরাচ্ছে। এটা দেখে অন্তরা ভাবে আরে সাজুর মাথার চুলও তো ছোট‌। 

তাহলে ওয়াশরুমে এতো লম্বা চুল আসলো কোথা থেকে?


অন্তরা কাওকে কিছু না বলে চুপচাপ সে পড়তে বসে। সে ভেবে পাচ্ছে  না তাহলে এই লম্বা চুলটা আসলো কোথা থেকে। পরে তার মা তাকে খাবার টেবিলে ডাকে। অন্তরা খাবার খেয়ে শুয়ে আছে। কিছুক্ষণ পরে শহিদ বাসায় ফিরে। আজ তার একটু দেরি হয়ে গেছে। পরদিন অন্তরা স্কুলে যাওয়ার পথে একটা ছেলেকে তাদের বাসার গলিতে হাটতে দেখে। যে ছেলেটিকে এর আগে কখনোই সে দেখেনি।

 তো অন্তরা স্কুলে চলে যায়। শহিদও যখন অফিসে যাচ্ছে তখন সে তাদের বাসার গলিতে একটা অপরিচিত ছেলেকে উদ্দেশ্যহীনভাবে হাটতে দেখে।

 শহিদ অফিসে চলে যায়। আর বাসায় তখন শিউলি তার ছোট মেয়ে রিতা ও কাজের ছেলে সাজু। শিউলি দরজাটি বন্ধ করে বেডরুমে যায়।কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার পর সে কখন যে ঘুমিয়ে পরে তা খেয়াল নেই। পরে সে জেগে উঠে। তার মেয়ে রিতা পাশেই শুয়ে ঘুমাচ্ছে। শিউলি সাজুকে ডাকে।


কিন্তু সাজুর রুম থেকে কোনো আওয়াজ আসছে না। 

তাই শিউলি আস্তে আস্তে সাজুর রুমে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে তার বিছানা খালি। সেখানে সাজু নেই।

 শিউলি পুরো বাসা খুজেঁ না পেয়ে ওয়াশরুমে খুঁজতে গিয়ে দেখে সেখানেও সাজু নেই। 

শিউলি ভাবে আজব তো ছেলেটি কোথায় গেল। 

তখন সে দরজায় কারো নক করার আওয়াজ শুনতে পায়। শিউলি দরজা খোলে দেখে সাজু দাড়িয়ে আছে। সাজুকে বাহিরে দেখে রাগান্বিত স্বরে বলে তুমি কার কাছে  বলে বাহিরে গিয়েছো। 

এভাবে দরজা খোলে বাহিরে যাওয়া কি তোমার ঠিক হয়েছে। সাজু বলে মা আমার একটা জরুরী কাজ ছিল। 

তাই আমি বাহিরে গিয়েছিলাম। আর তখন আপনি ঘুমইতেছিলেন। তাই আপনাকে ডাকি নি। শিউলি জিজ্ঞেস করে তো কি কাজে বাহিরে গিয়েছিলে? 

সাজু বলে র*ক্ত! বলেই সে থেমে যায়। শিউলি অবাক হয়ে বলে কি? সাজু বলে মা আমি আমার বান্ধুর সাথে দেখা করতে বাহিরে গিয়েছিলাম। বলেই সাজু তার রুমে চলে যায়।


শিউলি একটা বিষয় খেয়াল করে, সাজুকে এখন একটু অন্যরকম লাগছে। মানে কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে। এবার শিউলি তার রুমে গিয়ে শুয়ে থাকে। 

সাজুকে ডেকে বলে তুমি কাপড়গুলো ধুয়ে দাও। 

আমি একটু বিশ্রাম করছি। শিউলি কিছুক্ষণ পর উপলব্ধি করে তার ঠিক মাথার পাশে কেউ একজন নিঃশ্বাস ফেলছে। শিউলি তাকিয়ে দেখে কেউ নেই। সে অবাক হয়ে যায়। আরে এই মাত্র তো কে যেন তার ঠিক পাশেই নিঃশ্বাস ফেলেছে। তাহলে কে ছিল। সে সাজুকে ডাকে। সাজুর কোনো সাড়া নেই। বাহিরে তখন ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে সাথে অনেক বজ্রপাত হচ্ছে। 

যেকোনো সময় বৃষ্টি হতে পারে। চারপাশে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। হঠাৎই বিদ্যুৎ চলে যায় আর সবকিছু হালকা অন্ধকার হয়ে যায়। দিন না রাত বোঝার কোন উপায় নেই। মনে হচ্ছে রাত হয়ে গেছে। আকাশে কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। তাই শিউলি বিছানা ছেড়ে উঠে মোমবাতি খুঁজতে থাকে। সে মোমবাতি খুঁজতে খুঁজতে রান্নাঘরে যায়।


এদিকে অন্তরা স্কুল শেষ করে সে তার বন্ধুকে সাথে নিয়ে পরিচিত একটি লোকের কাছে যায়। লোকটি অনেক জ্ঞানি ও বুদ্ধিমান। লোকটি তার বাসায় কোনো একটি বই পড়ছিল। তখনই তাদেরকে দেখে বলে তোমরা এই সময়? অন্তরা বলে আংকেল আমি আপনার কাছে এসেছি একটা বিষয় জানার জন্য। লোকটি বলে হ্যাঁ আমি জানি তুমি কেন এখানে এসেছো! লোকটি বলে তুমি একটা চুল এনেছো। সে বেপারে কিছু জানতে এখানে এসেছো তাইনা? লোকটির মুখে এসব কথা শুনে অন্তরা ভাবে আশ্চর্য লোকটি আমার এসব কথা কিভাবে জানলো। আমি তো কাওকেই এ বিষয়ে কিছু বলিনি। লোকটি বলে ঠিক আছে তুমি চুল টি দাও। অন্তরা তার ব্যাগ থেকে চুলটি বের করে দিলে, লোকটি চুলটি দেখে বলে সর্বনাশ এটি তো মানুষের চুল বলে মনে হচ্ছে না। কারণ এই চুল টা কোনোভাবেই মানুষের চুল হতে পারে না। এটা নিশ্চয়ই কোনো খারাপ কিছুর চুল হবে। 

আচ্ছা মা তুমি এই চুলটি কোথায় পেয়েছো?


অন্তরা বলে আমাদের ওয়াশরুমের ভেতর থেকে চুলটি পেয়েছি। লোকটি অন্তরার কথা শুনে বলে সর্বনাশ তোমার বাসায় তো তাহলে খারাপ কিছু একটা আছে। আচ্ছা আমাকে এটা বলো তোমার বাসায় মোট কয়জন বসবাস করে? কে কে আছে? অন্তরা সবার নাম বলে। লোকটি বলে আচ্ছা এখন এই মুহূর্তে তোমার বাসায় কে কে আছে? অন্তরা বলে এখন তো মা ও ছোট বোন আছে। সাথে সেই কাজের ছেলে সাজু আছে।

লোকটি তার চোখ কপালে তোলে বলে মা তোমার মায়ের সাথে যে ছেলে  মানে সাজু আছে, সে কোনো সাধারণ ছেলে না। হতে পারে সে কোনো ছেলেই নয়। 

অন্য কিছুও হতে পারে। তুমি এক কাজ করো বাসায় তোমার মাকে ফোন করে বলে দাও ঐ সাজু নামের ছেলেটির থেকে সাবধানে থাকতে। 

লোকটির কথা শুনে অন্তরা অবাক হয় ও অনেক ভয় পেয়ে যায়। 


অন্তরা তখন সেখান থেকে ফোন নিয়ে  কল করলে তার বাসার নাম্বার টি বন্ধ পায়। লোকটি বলে তোমাকে এখনি বাসায় যেতে হবে। দাড়াও আমার পরিচিত একজন হুজুর আছে। সে এসব বিষয়ে ভালো জানে। তাকে নিয়ে আমিও আসছি। একথা বলে তারা সবাই দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে পরে। পরে সেই হুজুরকে সাথে নিয়ে অন্তরা তার বাড়ির দিকে পা বাড়ায়। আর অন্য দিকে বাসায় শিউলি মোমবাতি জ্বালিয়ে বসে আছে। সাজুকে ডেকে না পেয়ে সে পাশের রুমে গিয়ে দেখে সাজু ভয়ানক ভাবে শিউলির দিকে তাকিয়ে আছে। তাকে খুবই ভয়ানক লাগছে। চুলগুলো মাটিতে পরে আছে। মানে সাজুর মাথার চুলগুলো বিছানা থেকে মাটি পর্যন্ত বিস্তৃত। সেই ভয়ানক সাজু শিউলির দিকে তাকিয়ে বলছে আমি র*ক্ত চাই। আমাকে র*ক্ত দে। নয়লে আমি তোর র*ক্ত নেবো। শিউলি সাজুর এরকম ভয়ানক রূপ দেখে দৌড়ে পাশের রুমে যেতে চাইলে, সাজু পেছন থেকে তার পায়ের মধ্যে সেখান থেকেই তার লম্বা চুল দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে।


আর শিউলি সেখানেই হোচট খেয়ে পরে যায়। সাজু ভয়ানক ভাবে হাসতে থাকে। আমি তো তোদের কবেই মে*রে ফেলতাম। মারিনি,আজ সুযোগ পেয়েছি। আজ তোকে মেরে আমি এখান থেকে চলে যাবো বলেই সে শিউলির উপর ঝাপিয়ে পরে। শিউলি কোনোভাবে সেখান থেকে উঠে দৌড়ে দরজা টা খোলে বের হতেই যাবে। তখনই সেই ভয়ানক ছেলেটি শিউলি কে ধরে ফেলে। শিউলি ভয়ে চিৎকার করছে। এদিকে পাশের রুমে তার ছোট বাচ্চা মেয়েটিও কান্না জুরে দেয়। আর তখনই সেই ভয়ানক সাজু শিউলিকে ছেড়ে রহস্যময় একটা হাসি দিয়ে পাশের রুমের দিকে যেতে থাকে। তখনই শিউলি ভয়ে চিৎকার করতে থাকে। যদি সাজু তার মেয়েটির কোনো ক্ষতি করে বসে। এই ভেবে শিউলি দৌড়ে পাশের রুমে গিয়ে তার মেয়েটিকে কোলে নেয়। তখনই সাজু ভয়ানকভাবে তার দিকে আসে। ভয়ংকর সাজু শিউলির চুলে ধরে বলতে থাকে। আমি তো এতক্ষন তোকে মা*রার চিন্তা করেছিলাম।


এখন তোর মেয়েকে আমি মে*রে ফেলবো বলেই সাজু শিউলির চুলে প্রচন্ডভাবে একটা টান দেয়। তাতে শিউলি মাটিতে পরে যায়। তখনই সেখানে অন্তরা ও তার সাথে সেই হুজুর লোকটিও আসে। তারা এসে যাওয়াতে শিউলি একটু সাহস পায়। সে তার বাচ্চা মেয়েটিকে নিয়ে নিরার থেকে দূরে চলে আসে। হুজুরটি বলে তুই কে সেটা আমি জানতে চাইনা। তুই এখন এই মুহূর্তে এখান থেকে চলে যাবি। নয়তো তোর অবস্থা খুবই খারাপ হবে। একথা বলে হুজুরটি বোতল থেকে কিছু পানি সাজুর দিকে ছিটিয়ে দেয়। তখনই সাজু কান্না করতে থাকে। আর সেখানেই সেই ভয়ানক সাজু সবার সামনেই একটা কথা বলতে বলতে সেখানেই অদৃশ্য হয়ে যায়। 


নিরার কথা টি ছিল,আমি আবারো আসবো। আমি ছারবো না কাওকে।


সমাপ্ত।


গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে, তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার একটা কমেন্টই ভৌতিক গল্পকে নতুন গল্প লিখতে উৎসাহীত করবে। কেননা আমরা আপনাদের কমেন্ট গুলো পর্যবেক্ষণ করে থাকি। আর একটা কথা, আপনার আশেপাশে পরিচিত যারা ভৌতিক গল্প পড়তে পছন্দ করে। তাদেরকে ভৌতিক গল্পে আমন্ত্রন করে গল্প পড়ার সুযোগ করে দিন। যাতে তারাও গল্পগুলো পড়তে পারে। সবাইকে ভৌতিক গল্পের বেপারে জানান ও ভৌতিক গল্প পড়তে উৎসাহিত করুন। দেশ ও দেশের বাইরে, যে যেখান থেকে ভৌতিক গল্প পড়ছেন, সবাইকে অসংখ ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন,অতিশিগ্র আবারো নতুন কোনো গল্প নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হবো।


কপিরাইট: গল্পটির সমস্ত লেখায় লেখকের নিজস্ব লেখা। তাই গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 


গল্প : লম্বা চুলের ছেলেটি (সম্পূর্ণ পর্ব) 

লেখক : সাখাওয়াত হোসেন ( সাজু) 

প্রকাশ : ২৭এপ্রিল ২০২৪, শনিবার

সময়: রাত ০৯:০০টায়

পূনঃরায় পোষ্ট : “লম্বা চুলের ছেলেটি” গল্প 

ক্রেডিট : ভৌতিক গল্প 

Gmail : mdsazumia6432@gmail.com


#ভূতের_গল্প #লম্বা চুলের ছেলেটি #ভূতেরগল্প #highlightseveryone #foryoupageシ #লম্বা_চুলের_ছেলেটি_লিংক #rpambg20 #সাখাওয়াত হোসেন ( সাজু)  #ভূতেরভয়ংকরগল্প #virals #foryou #foryourpage #horrorstory #bhoothfm #bhoot #horror_story #ghost #লম্বা_চুলের_মেয়েটি_ভৌতিক_গল্প #viralposts  #লেখকঃ সাখাওয়াত হোসেন ( সাজু)  #viralpage #viralpost #Anwar_hossain

0 Reviews:

Post Your Review