অন্তরা সবেমাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে।
ছেলেটি অন্যান্য ছেলেদের মতো নয়।
সে ছেলেটি দেখতে অনেক ফর্সা ও মাথার চুলগুলো ছিল অনেক লম্বা।
অন্তরা দেখে ছেলেটি নাকি রাতের বেলা যাকেই একা পাচ্ছে, তাকেই নাকি মে*রে ফেলছে।
শহরের সব মানুষের মনে এখন আতংক বিরাজ করছে। কেউ এখন রাতের। অন্ধকারে ঘর থেকে বের হবার সাহস পায় না।
অন্তরা টিভিতে এই খবরটা দেখে ভাবে এরকমও কি হয় নাকি?
কোনো ছেলে মানুষ আবার মানুষ খু*ন করে কিভাবে!
অন্তরার পরিবারে তার বাবা মা ও তার এক ছোট বোন আছে।
তার বাবা শহরে ছোট একটা চাকরি করে। অন্তরার মা তার সংসারের কাজ কর্ম সেরে একটু বিশ্রামের সুযোগ পায় না।
এখন কিছুদিন হলো তাদের ঘরে অন্তরার ছোট বোন জন্ম নিয়েছে।
একা বাসায় একটু একটু ভয়ও করছে। ছোট মেয়ে রিতাকে বিছানায় শুইয়ে রেখে সে কিচেনে রান্না করছিল।
শিউলি তো প্রথমে ছেলেটিকে দেখে ভয় পেয়ে যায়।সে জিজ্ঞেস করে কে তুমি?
আর তুমি ঘরে প্রবেশ করলে কিভাবে?
ছেলেটি বলে আমি সাজু। আপনার বাসায় কাজ করার জন্য আমাকে পাঠিয়েছে।
শিউলি জিজ্ঞেস করে তোমাকে এই বাসায় কাজ করার জন্য কে পাঠিয়েছে?
সাজু বলে মা আপনি কোনো চিন্তা করবেন না।
সেখানে অতিথি আসলে থাকতে দেওয়া হয়।
তো শিউলি ভাবে সাজুকে সেই খালি রুমটিতেই থাকতে দিবে।
সাজুকে সবকিছু বুঝিয়ে দিলে সে খালি রুমটিতে চলে যায়।
অন্তরাও প্রথমে ছেলেটিকে এ বাসায় দেখে অবাক হয়েছিল।
বলা নেই কওয়া নেই হুট করে বাবা কোন ছেলেকে কাজের জন্য বাসায় রেখেছে।
শহিদ ছেলেটিকে ডাকলে সে আসে। শহিদকে দেখে ছেলেটি সালাম দেয়।
কিছুক্ষণ পরে কিচেনে গিয়ে দেখে সাজি রান্না করছে।
এদিকে শহিদ অফিসে থাকাকালীন সময়ে তার বন্ধুকে কল দেয়। এটা জানার জন্য যে সে কাজের ছেলের কথা বলেছিল।
তোমাকে একটু বাহিরে যেতে হবে। কি একটা জিনিস আনতে সাজুকে বাহিরে পাঠায়।
অন্তরা গোসল করার জন্য ওয়াশরুমে যায়। তখন সে ওয়াশরুমের ভেতর একটা চুল খুজেঁ পায়।
পরে সে ভাবে এই বাসাতে তো মা আর কাজের ছেলে সাজু ছাড়া আর কেউ নেই।
তাহলে ওয়াশরুমে এতো লম্বা চুল আসলো কোথা থেকে?
কিন্তু সাজুর রুম থেকে কোনো আওয়াজ আসছে না।
তাই শিউলি আস্তে আস্তে সাজুর রুমে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে তার বিছানা খালি। সেখানে সাজু নেই।
শিউলি পুরো বাসা খুজেঁ না পেয়ে ওয়াশরুমে খুঁজতে গিয়ে দেখে সেখানেও সাজু নেই।
শিউলি ভাবে আজব তো ছেলেটি কোথায় গেল।
এভাবে দরজা খোলে বাহিরে যাওয়া কি তোমার ঠিক হয়েছে। সাজু বলে মা আমার একটা জরুরী কাজ ছিল।
সাজুকে ডেকে বলে তুমি কাপড়গুলো ধুয়ে দাও।
আচ্ছা মা তুমি এই চুলটি কোথায় পেয়েছো?
লোকটির কথা শুনে অন্তরা অবাক হয় ও অনেক ভয় পেয়ে যায়।
নিরার কথা টি ছিল,আমি আবারো আসবো। আমি ছারবো না কাওকে।
গল্প : লম্বা চুলের ছেলেটি (সম্পূর্ণ পর্ব)
প্রকাশ : ২৭এপ্রিল ২০২৪, শনিবার
পূনঃরায় পোষ্ট : “লম্বা চুলের ছেলেটি” গল্প


0 Reviews:
Post Your Review