Md Sazu Mia - Md Sazu Mia
SUBTOTAL :

Follow Us

Md Sazu Mia

Md Sazu Mia

Short Description:

Product Description

 

লাশটি_এখানে_ছিল

সম্পূর্ণ পর্ব

#লেখক_মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সাজু


© ভৌতিক গল্প  (গল্পটি এডমিনের অনুমতি ছাড়া কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যদি কেউ এডমিনের অনুমতি ব্যতিত গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করে, তাহলে সে “অমানুষ” ও চোর বলে গন্য হবে। কথাগুলো আপনাদের কাছে খারাপ লাগতে পারে, তাই দুঃখিত! কথাগুলো শুধুমাত্র চো-রদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। যাদের কাজই অন্যের গল্প কপি করে পোষ্ট করা ) যারা এখনো গল্পটির প্রথম পর্ব পড়েননি তারা কমেন্ট বক্সে গেলেই গল্পটির প্রথম পর্বের লিংক পেয়ে যাবেন।


গল্পের শুরু এখান থেকে 👇👇

গ্রামের নাম বকুলতলা (ছদ্মনাম) সেই গ্রামে নিয়মিত ঘটে চলেছে ভয়ংকর সব পেরানরমাল ঘটনা। সময়টা তখন শীতকাল। সেই গ্রামে একটি বাড়িতে,,,,মাঝরাত,,,হাতে টর্চ ও ক্যামেরা নিয়ে আমি, অপু, তাহের, ও রানা মোট চারজন একসাথে হেটে চলেছি। আমরা চারজন ভূত বা অশরীরী বিষয় নিয়ে রিসার্চ করি। তো আজ আমরা যাচ্ছি একটা গভীর জঙ্গলে। যেখানে একটি পুরাতন বাড়ি আছে। বাড়িটি  দিনের বেলা দেখলেই গা ছমছম করে উঠে। মনে হয় বাড়িটি আমাদের খুবই কাছে টানছে। আর রাতে তো কথায় নেই।

  


কিছুদূর যাবার পর রাস্তার একপাশে চায়ের একটা দোকান দেখি। চারজনে মিলে চা পান করার ফাকে অনেক আড্ডা দিই। দোকানদার জিজ্ঞেস করে আপনারা এতো রাতে কোথায় যাচ্ছেন?তাও আবার টর্চ ও ক্যামেরা নিয়ে। চাচা আমরা একটা রিসার্চ করবো। তাই সাথে ক্যামেরা নিয়ে সেখানে যাচ্ছি। দোকানের সামনে থাকা একটি লোক বলে উঠে বাজান তোমরা এইসময় বাহিরে ঘুরেঘুরি করো না। জায়গাটা বেশি ভালো না। তারাতারি এই জায়গা ত্যাগ করো। এই বলে লোকটি চায়ের কাপে চুমুক লাগায়।


লোকটির কথায় আমরা চারজন মাথা না ঘামিয়ে হাসতে থাকি। হাইসো না বাজান। যখন বিপদে পরবা তখন বুঝতে পারবা। তোমরা পোলাপান মানুষ। মুরব্বিদের কথা শুনতে হয়। তোমরা যেখান থেকে এসেছো সেখানে ফিরে যাও। সেটাই তোমাদের জন্য ভালো হবে। চা পান করা শেষে সবাই হাঁটছি। গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি আমরা। আশেপাশে কাওকেই দেখছি না।আমাদের পাশ কাটিয়ে একটা গাড়ি সামনের দিকে চলে গেল।


যদিও সবাই একটু আদটু ভয় পায়। তবুও ভৌতিক বিষয়ে রিসার্চ করতে ভালোই লাগে।

আমরা জঙ্গলের একেবারে মাঝখানে আছি এখন। আশেপাশে কেউ নেই। থাকবেই কেন। জঙ্গল বলে কথা। রাত তখন দশটা বাজে। আমরা সবাই পুরনো বাড়ির পাশেই খালি জায়গাটাতে আলাদা আলাদা তাবু টানালাম। আমি তাদেরকে না বলেই পুরনো বাড়িটি বাহির থেকে ঘুরে দেখতে লাগলাম।শুনেছি বহু বছরের পুরনো বাড়ি এটি। অন্ধকারে ক্যামেরা হাতে নিয়ে হাঁটছি।


এখন রাত তো তাই অন্ধকারে বাড়িটির দৃশ্য ভালোভাবে আসছে না। আমি একসময় বাড়িটির পেছন পাশটাই যাই। বাহ পুকুরটি তো খুবই সুন্দর। পুকুরের পানিতে তাকিয়ে দেখি পানির কোনো নড়াচড়া নেই। পুকুরের পাড়ে থাকা কয়েকটা গাছ হঠাৎই আচমকা নড়ে উঠে। ক্যামেরাটি সেদিকে ধরলাম। কি হতে পারে? পরক্ষণেই আমি পুকুরের মাঝখানটাই পানির উপর কিছু একটা ভেসে থাকতে দেখি।


ভাবছি কি এটা! কি হতে পারে এটা। এতোদূর থেকে ভালোভাবে বোঝাও যাচ্ছে না। আমি পুকুরের ঘাটে দাড়িয়ে ভালোভাবে দেখতে লাগলাম পুকুরের পানিতে এটা কি ভেসে আছে!

কিন্তু সেটা ভালোভাবে আমার নজরে আসে না। আমি আশেপাশে লম্বা কোনোকিছু খুঁজতে থাকি। একসময় লম্বা শুকনো একটা বাশ পেয়েও গেলাম। বাঁশটি হাতে নিয়ে পুকুরে ভেসে থাকা জিনিসটি কি, সেটা জানার চেষ্টা করছি। কিন্তু না লম্বা বাশটি দিয়ে ভেসে থাকা জিনিসটার নাগাল পাচ্ছি না।


তাই ভাবলাম একটু পানিতে নামলেই আমি জিনিসটার নাগাল পেয়ে যাব। আর তখনই আমি  রাতের আধারে বাশটি হাতে নিয়ে পুকুরে নেমে পরলাম। পানি অনেক ঠান্ডা। একে তো শীত তার উপড় পানি তো ঠান্ডা থাকবেই। আমি বাশ দিয়ে জিনিসটিকে আমার দিকে টানছি। পানিতে ভেসে থাকা জিনিসটাকে আস্তে আস্তে আমার দিকে আনতে লাগলাম। আর একটু কাছে আনতে আমি দেখতে পাই! আরে এটা তো লাশ। দেখে তো মনে হচ্ছে এটা একটা মেয়ের লাশ।


লাশটি দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। হাতের বাশটি ফেলে তারাতারি পানি থেকে উঠে আসি। পুকুরের পাড়ে উঠে আরেকবার তাকাই। ভাবছি এটা কি! দেখি হ্যাঁ লাশই তো। একটা মেয়ের লাশ। মেয়েটির পরনে সাদা টাইপের একটা পোশাক পড়া। আমি দৌড়ে আমাদের তাবুর কাছে চলে আসি। দেখি তাবুর ভেতর তারা তিনজনই ঘুমাচ্ছে। আরে কিছুক্ষণ আগেই না দেখলাম তারা তিনজন বসে আছে গল্প করছিল। তাহলে এতো তারাতারি কখন ঘুমালো।


এসব ভাবতে ভাবতে আমি ঘরির দিকে তাকাই।  এ...কি ঘরিতে তো রাত তিনটা বাজে!! কিন্তু কিছুক্ষণ আগেই তো আমি এখান থেকে গেলাম। এতো তারাতারি কিভাবে তিনটা বেজে গেল।

আমি ভয়ে ভয়ে তাদের তিনজনকেই ডাকি। এই অপু। এই তাহের। কোথায় তোরা তারাতারি উঠ।

রানা উঠ। তারাতারি উঠ। তিনজনই জেগে উঠে। কি হয়েছে?এতো রাতে চিল্লাচিল্লি করছিস কেন। আমাদের তো একটু শান্তিতে ঘুমাতে দে। তারা জানতে চায় কি হয়েছে।


আমি বলি ভাই তোরা এ জায়গায় ঘুমাচ্ছিস আর আমি কতো বড় বিপদে পরতে যাচ্ছিলাম। বিপদ"!!! কি বিপদ জিগ্যেস করে রানা। বললাম আমার সাথে চল। তাহলেই জানতে পারবি। তাদের তিনজনকে সাথে নিয়ে আমি পুরনো বাড়িটির পেছন সাইডের সেই পুকুর পাড়ে যাই। তেদেরকে বললাম কিছুক্ষণ আগে এখানে একটা লাশ ছিল। সবাই আমার কথা শুনে হাসে। হাহাহাহাহা লাশ! কোথায় লাশ??? বললাম ঐ যে পানির মাঝখানে ছিল লাশটি। আমি পানিতে নেমে প্রায় পুকুর পাড় পর্যন্ত নিয়ে আসছিলাম লাশ টিকে।


তখন তো আমি জানতাম না যে এটা একটা লাশ। রানা অপু ও তাহের তারা কেউই আমার কথা বিশ্বাস করলো না। হাহাহাহা তোর মাথা গেছে। লাশ পেলি কোথায়? এখানে তো কিছুই দেখছি না। একথা বলে তারা সেখান থেকে চলে আসে। আমি পুকুরপাড়ে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকি। এক পর্যায়ে আমিও সেখান থেকে চলে আসি। তাবুর ভেতর কম্বলটা মুড়িয়ে বসে আছি। আমি অনেকটা ভয় পেয়েছি। হঠাৎই আমার ক্যামেরার কথা মনে পরলো।


আমার ক্যামেরাটি নিতে গিয়ে দেখি ক্যামেরাটি আমার কাছে নেই। আমি তাদের তিনজনকে ডাকতেই যাবো। তখন ভাবছি। তারা ঘুমাবে এখন। বারবার বিরক্ত করব না তাদের। ভাবছি হয়তো পুকুরপাড়ে ক্যামেরাটি ফেলে এসেছি। এটা ভেবে আবারো পুকুর পাড়ে যেতে লাগলাম। হঠাৎই দেখি একটা বৃদ্ধ লোক সেখানে দিয়ে আস্তে আস্তে হেটে যাচ্ছে। আমি একটু অবাক হই। এই জঙ্গলের মধ্যে এত পুরোনো বাড়ির পাশে একা আমি। সামনে দিয়ে একটা বৃদ্ধা লোককে হেটে যেতে দেখছি।


আমি লোকটিকে ডাকতে থাকি। আর লোকটি থামলে আমি বৃদ্ধ লোকটির কাছে গিয়ে বলতে লাগলাম চাচা আপনি ঐদিকে যাবেন না। সেখানে আমি একটা লাশ দেখেছি। তখনই চাচা বলে আমাকে লাশের ভয় দেখাইয়ো না। আমার অনেক বয়স হয়েছে। আমি এসব লাশটাস দেখে ভয় পাই না। আমি চাচাকে না করা স্বত্ত্বেও তিনি পুকুরের পাড় ঘেসে পুকুরপাড়ের জঙ্গলের ভিতরে ডুকে গেল। ভাবছি এতো রাতে এখানে একটা বৃদ্ধ লোক কি করে।


দৌরে আমি সেখানে গেলাম। আরে এখানে তো কেউই নেই। আমি ক্যামেরা খুঁজতেছি। হঠাৎই আমি কিছু একটার উপর হোচট খেয়ে পরে যায়।

তাকিয়ে দেখি !!!! ওমা লাশ। আমি তাহলে এইমাত্র একটা লাশের উপর আছাড় খেয়ে পরে গিয়েছি। ভালো করে তাকিয়ে দেখি। আরে এটা তো সেই লাশটা। যেই লাশটা আমি কিছুক্ষণ আগে পানিতে ভেসে থাকতে দেখলাম। তখনই আমি ক্যামেরাটি পেয়ে যাই। সেখান থেকে দৌড়ে আসতেই যাই।


তখনই আমার মনে হয় কিছু একটা আমাকে ধরে রেখেছে। ভালো করে তাকাতেই আমি যা দেখি। তা দেখে আমার চোখ কপালে উঠে যায়।দেখি সেই লাশটা আমাকে একটা হাত দিয়ে ধরে রেখেছে। ভাবতেই কেমন যে ন গায়ে কাটা দিয়ে উঠে।আমি এই যে চেষ্টা করতেছি ছুটার জন্য। কিন্তু  লাশটি আমার একটা পায়ে এতো শক্ত করে ধরে রেখেছে।  আমি কোনোভাবেই ছুটতে পারছি না।


একসময় আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে দোয়া দুরুদ পড়তে লাগলাম। সর্ব শক্তি দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে সেখান থেকে দৌড়ে তাবুর কাছে চলে আসি। বাহ্ কি একটা অবস্থা এদিকে আমি ভূতের পাল্লায় পরে জীবন আমার যায় যায়। আর তারা তিনজন নাক ডেকে ঘুমায়। তাবুর ভেতর যেতে যাই। তাবুর ভেতর প্রবেশ করতেই আমি খেয়াল করি, যে আমার তাবুর ভেতর কিছু একটা শুয়ে আছে!!!


এটা আবার কি! আমার তাবুর ভেতর কি একটা শুয়ে আছে। আমি মনে সাহস নিয়ে তাবুর পর্দাটা সরাতেই যা দেখি। তা দেখে পূনঃরায় আমি এতোটাই ভয় পাই। কেন যে এই ভয়ানক জঙ্গলে আসতে গেলাম। সর্বনাশ!!আমার তাবুর ভেতরে সেই লাশ টি পরে আছে। বেপারটি ভাবতেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠে। লাশটি তো এতক্ষণ বাড়ির পেছনে পুকুর পাড়ে ছিল। এখন সেটি  আমার তাবুর ভেতর পরে আছে।


আমি ভয়ে চিৎকার দিয়ে  মাটিতে পরেই যাচ্ছিলাম,ঠিক সে সময়ই রানা বলে উঠলো এই তোর কি হয়েছে? এটা কোনো লাশ না। আমি রানা। তুই কি সত্যিই ভয় পেয়েছিস? আমি এতো বেশি ভয় পেয়েছিলাম কিছুক্ষণ কোনো কথা না বলে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকি। তাবুর ভেতর আমার বন্ধু রানা যদি শুয়ে থাকে। তাহলে পুকুরে ভেসে থাকা সেটা কি ছিল! আর যে লাশটি কিছুক্ষণ পূর্বে আমাকে টেনে ধরেছিল তাহলে সেটা কি ছিল।


আমার কথা তারা তিনজন কিছুতেই বিশ্বাস ককরতে চায় না। একসময় সকাল হয়ে যায়। উঠে দেখি তারা তিনজনই পুকুর পাড়ে গিয়ে দাড়িয়ে আছে। আমি সেখানে গিয়ে বলি। রাতে যে লাশটি দেখেছিলাম সেটি এখানেই ছিল। তারা হাসে। তাহলে এখন লাশটি কোথায় গেল?  আমি তাদেরকে বলি শোন, তোরা এখানে যা ইচ্ছা তাই কর। আমি গেলাম। কেন যে আমি তোদের সাথে এসব ভূত রিসার্চ করতে আসলাম। এখানে থাকলে আমি মরেই যাব।


রানা আর তাহের আমাকে অনেক বোঝায়। যে রাতে দেখা সবকিছু হয়তো তোর মনের ভূল।

কিন্তু আমি সেটা মানতে নারাজ। কারন আমি তো সেটা জানি যে রাতে আমার সাথে কি ঘটেছে। আমি সবকিছু ঘুছিয়ে সেখান থেকে বেড়িয়ে পরি। সেখান থেকে বের হবার সময়,শেষবারের মতো পুরোনো বাড়িটির দিকে তাকায়। কি আছে বাড়িটির ভেতর। বাড়িটির দরজায় বড় একটি তালা ঝুলছে।


নাহ আর এক মুহূর্ত এখানে নয়। তাদেরকে বিদায় জানিয়ে বের হতে যাচ্ছি, তখনই অপু বলে না রে, যেখানে তুই থাকবি না। সেখানে আমিও নাই। আমিও বাড়ি চলে যাব। একসময় তাহের ও রানা বলে তাহলে আমরাও চলে যাবো। এখানে থাকবো না। আমরা চারজন সবকিছু গুছিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে পরি। পথিমধ্যে সবাই গল্প করার ফাকে হাঁটছি। সামনে সেই দোকানটি। যেখানে গতোরাতে আমরা চারজন চা পান করেছিলাম।


কিন্তু সেখানে এসে আমরা চারজনই অবাক হয়ে যায়। একি এখানে তো কোনো দোকানই দেখছি না। রাতে যেখানে একটি দোকান ছিল। আমরা দোকানটি থেকে চা পান করেছি। এখন দেখছি সেখানে একটি পুরনো ভিটা। আমরা অনেক ভয়ে সে জায়গাটা ত্যাগ করি। সবাই যার যার মতো বাড়িতে চলে আসি। কিছুদিন পর রাতের বেলা আমি রানাদের বাড়িতে যাচ্ছি। হঠাৎ দেখি রানার ঘরের একেবারে ঠিক দরজার সামনে একটা লাশ পরে আছে।


সর্বনাশ! !!লাশটা দেখি এখানে! আমি ভয়ে চিৎকার দিয়ে রানার নাম ধরে ডাক দেই। রানা ঘরের দরজা খুলতেই লাশটি সাথে সাথেই অদৃশ্য হয়ে যায়।কি ঘটছে আমার সাথে। কিছুই বুঝতে পারছি না। রানাকে এটা বললে তারা বিশ্বাস করে না। বলে কি বলিস তুই। কই লাশ? বলি লাশটি এখানে ছিল, ঠিক তোর ঘরের দরজার সামনে। পরে আমি তারাতারি বাড়ি ফিরে আসি। রাতে ঘুমিয়ে আছি। হঠাৎই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। জেগে দেখি আমার ফোনে কে যেন কল দিয়েছে। 


দেখি এটা তাহের কল দিয়েছে। কলটি রিছিভ করতেই তাহেরের গলা। বলে দোস্ত আমি তো আজ ভয়ঙ্কর কিছু একটা দেখেছি। বললাম কি দেখেছিস? তাহের বলে আরে আমি কিছুক্ষণ আগে ওয়াশরুমে যাই। গিয়ে দেখি ওয়াশরুমের ভেতর একটি লাশ পরে আছে। তুইতো জানিস আমি এসব লাশ দেখে এমনিতেই ভয় পাই। তার উপর আবার ভয়ানক ছিল লাশটি।


আমি ভয়ে দৌরে রুমে চলে আসি। তাহেরের কথা শুনে আমি অবাক হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোনে আরো একটা কল। দেখি অপু কল দিয়েছে। আরে অপু তুই এতো রাতে। অপু ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। ভয়ে ভয়ে বলছে। ভাই তুই আমাদের সেদিন যে লাশটির কথা বলেছিলি,আজ আমি ঠিক সেরকমই একটা লাশ দেখেছি। আমি বাজার থেকে এসে খেয়েদেয়ে শুয়ার জন্য আমার রুমে গেলাম। দেখি আমার খাটে একটা ভিবৎস লাশ।


তুই বল এসব দেখলে কি স্বাভাবিক থাকা যায়! বললাম বেপার কি আমরা সবাই সেখান থেকে আসার পরপরই শুধু লাশ দেখছি। আমিও কিছুক্ষন আগে লাশটি দেখেছি। আরো দুদিন কেটে যায়। আমার অনেক মাথা ব্াথা করছে। তাই ট্যাবলেট আনতে দোকানে যাই। বাড়ি ফিরার সময় হঠাৎ দেখি সামনে রাস্তার উপর আড়াআড়ি ভাবে কি যেন একটা শুয়ে আছে। আমার আর বোঝার বাকি রইলো না যে এটা কি।


আবারো সেই লাশ টা হবে হয়তো। হঠাৎই আমার পাশ কাটিয়ে একটি ট্রাক সামনের দিকে চলে যায়। আমি দূর থেকে সবকিছু দেখছি। ওমা লাশটির কাছে যেতেই ট্রাকটি উল্টে গেল। উল্টে একেবারে পাশের পুকুরে পরে গেল। সর্বনাশ কি হচ্ছে এসব। সবাই দৌড়াদৌরি করে আসতে থাকে। ট্রাক ড্রাইভার বেঁচে থাকলেও হেল্পার ছেলেটি মারা যায়। আমি কিছুই বু্ঝতে পারছি না। একটা লাশ কেন এভাবে সবার পেছনে লেগেছে। যে কাওকেই এখন ভয় দেখাচ্ছে। সুযোগ পেলে মে*রেও ফেলছে।


আমি ট্যাবলেট খেয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে পরি। মাঝরাতে পাশের বাড়ি থেকে অনেক চিৎকার চেচামেচির আওয়াজ শুনতে পায়। তারাতারি উঠে সেখানে গিয়ে দেখি পাশের বাড়ির ছোট মেয়েটি বড় একটা আমগাছের ডালে বসে আছে। এতো রাতে এই ছোট মেয়েটি কিভাবে সেখানে গেল। কেউ মেয়েটিকে নামাতে গাছে উঠছে না। সবাই ভয়ে আছে। এটা কি আসলেই ঐ বাড়ির মেয়ে নাকি শয়তান বা খারাপ কিছু একটা। হঠাৎই আমি দেখি আম গাছটির অনেক উপরে মানে একেবারে চুড়ায় সেখানে একটি লাশ। লাশটি আর কেউই দেখছে না শুধু আমি দেখছি।


লাশটি দেখে ভয় পেয়ে যাই। আমার শরীরের লোমগুলো মূহুর্তে মধ্যেইদাড়িয়ে গেল। সাথে সাথে লাশটি সবার সামনে চলে আসে। আর ভয়ানক ভাবে আওয়াজ করতে থাকে। সবাই ভয়ে যে যেদিকে পারছে দৌড়ে পালাচ্ছে। আমিও ভয়ে  জুড়ে দৌড় দিলাম। অন্ধকারে দৌড়াতে গিয়ে হঠাৎই পা পিছলে পরে যাই। আর আমার মাথায় প্রচন্ড আঘাত পাই। আমি সাথে সাথেই সেখানে অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি হাসপাতালে শুয়ে আছি। আমার মাথায় অনেক ব্াথা অনুভব করছি। চোখ মেলে তাকাতেই দেখি আমার পরিবারের সবাই পাশে দাড়িয়ে আছে। তাহের অপু ও রানাও এসেছে আমাকে দেখতে। আমি ভালোকরে নড়তে পারছি না। হঠাৎই আমি খেয়াল করি হাসপাতালের জানালার বাহিরে একটি লাশ দেখা যাচ্ছে। আমি খুব ভয় পাচ্ছি। ভয়ে মুখ লুকানোর চেষ্টা করি।


সমাপ্ত।


দেশ ও দেশের বাইরে, যে যেখান থেকে ভৌতিক গল্প পড়ছেন,সবাইকে অসংখ ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন,অতিশিগ্র আবারো নতুন কোনো গল্প নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হবো।


গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে,তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার একটা কমেন্টই ভৌতিক গল্পকে নতুন গল্প লিখতে উৎসাহীত করবে। আর একটা কথা ,আপনার আশেপাশে পরিচিত যারা ভৌতিক গল্প পড়তে পছন্দ করে। তাদেরকে ভৌতিক গল্পে আমন্ত্রন করে গল্প পড়ার সুযোগ করে দিন। যাতে তারাও গল্পগুলো পড়তে পারে।সবাইকে ভৌতিক গল্পের বেপারে জানান ও ভৌতিক গল্প পড়তে উৎসাহিত করুন।


কপিরাইট: গল্পটির সমস্ত লেখায় লেখকের নিজস্ব লেখা। তাই গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 


গল্প : লাশটি এখানে ছিল (সম্পূর্ণ পর্ব) 

লেখক : মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সাজু

প্রকাশ :  ১৯এপ্রিল ২০২৪, শুক্রবার

সময়: রাত ০৯:০০টায়

পূনঃরায় পোষ্ট : “লাশটি এখানে ছিল” গল্প  

Gmail : mdsazumia6432@gmail.com


#ভূতের_গল্প #লাশটি_এখানে_ছিল #ভূতেরগল্প #highlightseveryone #foryoupageシ #লাশটি_এখানে_ছিল_লিংক #rpambg18 #মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সাজু #ভূতেরভয়ংকরগল্প #virals #foryou #foryourpage #horrorstory #bhoothfm #bhoot #horror_story #ghost #লাশটি_এখানে_ছিল_ভৌতিক_গল্প #viralposts  #মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সাজু #viralpage #viralpost

0 Reviews:

Post Your Review