Md Sazu Mia - Md Sazu Mia
SUBTOTAL :

Follow Us

Md Sazu Mia

Md Sazu Mia

Short Description:

Product Description

 




কালোজাদু

২য় পর্ব

#মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ( সাজু )


© ভৌতিক গল্প  (গল্পটি এডমিনের অনুমতি ছাড়া কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যদি কেউ এডমিনের অনুমতি ব্যতিত গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করে, তাহলে সে “অমানুষ” ও চোর বলে গন্য হবে। কথাগুলো আপনাদের কাছে খারাপ লাগতে পারে, তাই দুঃখিত! কথাগুলো শুধুমাত্র চো-রদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। যাদের কাজই অন্যের গল্প কপি করে পোষ্ট করা)নিত্য-নতুন গল্প পড়তে আমাদের পেইজটি ফলো করে পাশেই থাকুন।


গল্পের শুরু এখান থেকে 👇👇

পরদিন নুরি একটা হাসপাতালের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, সে দেখে রাস্তার একপাশে কিছু চুল পরে আছে। সে রহস্যময় একটা হাসি দিয়ে সে চুলগুলো তুলে নেয় ও তার ব্যাগে ভরে রাখে। পরদিন ফাহিমের সাথে দেখা হলে, নুরি কুড়িয়ে পাওয়া সেই চুলগুলো ফাহিমকে দিয়ে দেয়। নুরি বলে চুলগুলো আনতে অনেক কস্ট হয়েছে। একথা শুনে ফাহিম নুরিকে আরো কিছু টাকা দেয়। ফাহিম ভাবে আজই মিরাজের সাথে দেখা করতে হবে। সে মিরাজের বাড়িতে যায় ও মিরাজকে সাথে নিয়ে সেই কবিরাজের বাড়িতে পৌছায়। তারা দেখে কবিরাজ মশাই সাধনা করছেন। ধ্যানমগ্ন হয়ে আছেন। তারা কিছুক্ষণ বসে থাকে। একসময় কবিরাজ বলে কি চুল এনেছো তো? ফাহিম বলে হ্যাঁ ছবি ও চুল নিয়ে এসেছি।


কবিরাজ বলে ঠিক আছে তাহলে তোমার কাজ শেষ।এবার আমার কাজ শুরু হবে। একথা বলে কবিরাজ ছবি ও চুলগুলো একটা বক্সে লুকিয়ে রাখে। আর বলতে থাকে মিয়া এখন থেকে জেরিন নামের মেয়েটি তোমার আশেপাশেই থাকবে। কবিরাজ তাদের দুজনকে বলে, তোমরা এবার আসতে পারো। মিরাজ ফাহিমকে বলে ভাই কবিরাজ মশাইকে কিছু হাদিয়া দিয়ে যাও।ফাহিম মনে মনে রাগান্বিত হয়। সব জায়গায় টাকা টাকা। টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। কিছু টাকা কবিরাজের হাতে ধরিয়ে দিয়ে তারা সেখান থেকে চলে যায়।  ফাহিম বাড়িতে চলে আসে। মনে মনে ভাবে এইবার চান্দু তুমি আমার হয়ে যাবে। হাহাহাহা হাসি দেয়।


এদিকে কবিরাজ সেই চুলগুলো ও জেরিনের ছবি দিয়ে তার তন্ত্র মন্ত্র পড়া শুরু করে দেয়। কবিরাজ মশাই পুরোদমে তার কাজ করে যাচ্ছে। ফাহিম রাতে গভীর ঘুমে মগ্ন। হঠাৎই কারো ডাকে তার ঘুম ভাঙ্গে। সে কান পেতে শুনে, বাহির থেকে কে যেন তাকে ডাকছে। ফাহিম বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়ায়। আবারো ডাকছে তাকে। ফাহিম ভালো করে খেয়াল করে। একটি মেয়ে কন্ঠে তাকে কে যেন ডাকছে। ফাহিম ঘর থেকে বের হয়ে দেখে আশেপাশে কেউ নেই। বাহিরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। সে একসময় বাহিরে কাওকে না পেয়ে ঘরে চলে আসে। পরদিন ফাহিম কলেজে যায়। সে দেখে জেরিন আজ কলেজে এসেছে। ফাহিম মনে মনে বলে যাক আজ তো জেরিন কলেজে এসেছে।


 তাহলে দেখি কবিরাজের কাজটি কতোটা সফল হয়েছে। ফাহিম সাহস করে জেরিনের কাছে যায় সে আস্তে করে জেরিন কে জিগ্যেস করে, আচ্ছা তোমার শরীর টা এখন কেমন আছে? জেরিন বলে তুমি তো জনো না। আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ আছি। এই দুদিন শুয়ে থাকতে থাকতে আর ভালো লাগছে না। শুধু তোমার কথাই মনে পরছে। এটা শুনে ফাহিম মনে মনে এতো বেশি খুশি হয়। সে খুশিতে আত্নহারা। যাক তাহলে মিরাজের বুদ্ধিতে কবিরাজের জাদু মন্ত্র কাজ করেছে। ফাহিম বলে আমিও তো গতকাল তোমাকে দেখে আসার পর থেকে একটুও ঘুমোতে পারিনি। সারাক্ষণ শুধু তোমার কথায় মনে পরেছে।


জেরিন বলে -তাই?


__তুমি তো জানোনা আমি তোমাকে কতো টা ভালোবাসি। 


__হয়েছে হয়েছে আর ভালোবাসার পরিমাপ করতে হবে না।


ফাহিম ভাবে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পেয়ে গেলাম। যাক ভালোই হলো। এখন জেরিন শুধুই আমার। সে জেরিনের সাথে অনেক সময় গল্প করে। দুজনেই একসময় বাড়ি চলে যায়। ফাহিমের খুশি আর দেখে কে। জেরিন কে পেয়ে সে অন্যান্য সব বন্ধু বান্ধব দের কথা ভূলেই যায়। এখন ফাহিম শুধু জেরিনের কথাই ভাবে। আহ কি ভালোবাসা। মনে হচ্ছে কোনো অদৃশ্য শক্তি তাকে জেরিনের দিকে টানছে। ফাহিম রাতে শুয়ে একা একাই হাসে। ভালোবাসার মানুষটিকে আপন করে পেলে কার না খুশি লাগে।


এখন সে তার বন্ধু_বান্ধবদের সাথে তেমন একটা মিশে না। তেমন কথাও বলে না। সে সারাক্ষণ জেরিনের কথাই ভাবে। আজ সন্ধ্যায় বকুল তলায় তাদের দুজনের দেখা হবার কথা। তাই ফাহিম জেরিনের সাথে দেখা করার জন্য গোসল সেরে ভালো করে চুল আচরিয়ে, পারফিউম দিয়ে রেডি হয়ে বেরিয়ে পরে। ফাহিম বকুল তলায় গিয়ে দেখে সেখানে জেরিন আগে থেকেই বসে আছে। ফাহিমকে দেখে জেরিন উঠে দাড়ায়। আর জেরিন তখনই ফাহিমকে একটা বকুল ফুলের মালা গলায় পরিয়ে দেয়। ফাহিম সেই বকুল ফুলের মালাটি হাতে নিয়ে ঘ্রান শুকতে থেকে।

দুজন কিছুক্ষণ গল্প করে।  হঠাৎই সেখানে এক আইসক্রিম ওয়ালা আসে। ফাহিম বলে চলো আইসক্রিম খাই। জেরিন বলে না না আমি খাবো না। ফাহিম বলে আরে না,, চলো আইসক্রিম খাই। একথা শুনে জেরিন আর কিছু বলে না।


ততক্ষণে ফাহিম রাস্তার অপর প্রান্তে যায় আইসক্রিম আনতে যায়। আইসক্রিম নিয়ে আসলে ফাহিম দেখে সেখানে জেরিন নেই। সে চারদিকে খুজেঁ দেখে কোথাও জেরিনকে দেখা যাচ্ছে না। ফাহিম দেখে একটু দূরেই জেরিন হেটে যাচ্ছে। সে দৌড়ে জেরিনকে পেছন থেকে হাত ধরতেই দেখে এটা জেরিন না। এটা অন্য একটি মেয়ে। মেয়েটি পিছন ফিরেই ফাহিমকে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলতে থাকে মেয়ে মানুষ দেখলেই বুঝি হাত ধরতে মন চায়??ফাহিম অনেক লজ্জা পেয়ে সেখান থেকে চলে আসে।এইতো সামনেই জেরিন।দৌড়ে সেখানে গিয়ে দেখে জেরিন দাড়িয়ে আছে।ফাহিম বলে তুমি কোথায় ছিলে এতক্ষণ? আমি তোমাকে কতক্ষণ যাবত খুজতেছি।


জেরিন বলে আমি তো এখানেই ছিলাম।কয়েকটা কুকুর এসেছিল। আমি তো কুকুর দেখে আবার ভয় পাই। তাই দৌড়ে পাশের একটা বাসার আড়ালে লুকিয়ে ছিলাম। কুকুুরগুলো চলে গেলে আমি সেখান থেকে বের হয়। ফাহিম বলে আর এদিকে আমি তোমাকে কতো খুঁজছি। এখন আইসক্রিম খাও বলতেই হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে আইসক্রিম গলে পানি হয়ে সব মাটিতে পরে গেছে। জেরিন বলে থাক আজ আর আইসক্রিম খাবো না। চলো এখন বাড়িতে চলে যাই। আচ্ছা এখন চলো তোমাকে এগিয়ে দিয়ে আসি। তা লাগবে না আমি একাই যেতে পারবো।


ফাহিম ভাবে একটা মেয়ে যে কিনা আগে ফাহিম কে দেখলে তার দিকে ফিরেও তাকাতো না। তাকে পাত্তাই দিত না। আজ সে মেয়েটিই তার জন্য পাগল। ফাহিম মনে মনে হাসে। একসময় সেও বাড়িতে চলে যায়। বাড়িতে এসেগোসল সেরে, খাওয়াদাওয়া করে রাস্তায় ঘুরতে বের হয়। সাথে পাশের বাড়ির লিখনও আসে। লিখনকে সাথে নিয়ে সে হাটতেছে আর গল্প করতেছে। লিখন বলে তুই ইদানিং কোথায় থাকিস? তোকে তো ইদানিং দেখায় যাচ্ছে না।


 __ আরে আমি একটু পড়াশোনা নিয়ে বিজি আছি তো। তাই হয়তো তোরা দেখছিস না। 


__ নাকি তুই কারো প্রেমে পড়েছিস?


__বাদ দে তো এসব। তোর কি খবর বল।


__ কি আর বলবো, ঘরে মা অসুস্থ খুব টেনশন কাজ করে সবসময়। টাকাপয়সার অভাবে ভালো করে চিকিৎসাও করতে পারছি না। দোয়া করিস। 


__ঠিক আছে। তুই কোনো চিন্তা করিস না। দেখবি একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে।


একথা বলে দুজন বিদায় নিয়ে দুদিকে চলে যায়। ফাহিম ভাবে আজ সন্ধায় যদি জেরিনের সাথে দেখা করা যেতো। নাহ থাক আজ না। কাল তো কলেজে দেখা হবেই। সে বাড়ি চলে আসে। সন্ধাবেলা সে দেখে পুকুরপাড়ে কে যেন বসে আছে। ফাহিম দূর থেকে ডাকে। এই ্্্্্ কেরে এখানে??? এই কে এখানে??? কিন্তু না সেখান থেকে কেউ জবাব দেয় না। ফাহিম রাগান্বিত হয়ে সেদিকে যায়। গিয়ে দেখে একটা মেয়ে সেখানে বসে আছে। পেছন থেকে ভালো করে বোঝাও যাচ্ছে না মেয়েটি কে!  সে মেয়েটির সামনে গিয়ে অবাক হয়ে যায়। আরে এটা তো জেরিন। আরে জেরিন তুমি! তুমি এই সন্ধাবেলা একখানে কি করছো? জেরিন বলে আমি শিকার খুঁজছি।


ফাহিম কিছুই বুজতে পারে না। সে বলে কি শিকার? এই সন্ধাবেলা পুকুরে মাছ ধরবে নাকি? __আমি অন্য শিকার খুঁজছি। 


__এই সন্ধা বেলা তুমি এখানে না থেকে চলো আমাদের বাড়িতে। সে ফাহিমের দিকে অদ্ভুত চাহনিতে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে। জেরিন বারবার চুলের স্টাইল করছে। মানে জেরিন তার মাথার সামনের চুলগুলো বারবার সরাচ্ছে। কিন্তু জেরিনকে তো এর আগে কোনো দিন এভাবে চুল সরাতে দেখা যায়নি। ফাহিম কিছু টা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা জেরিন তুমি আমাদের বাড়ি চিনলে কিভাবে? জেরিন বলে সব এলাকা আমার কাছে চেনা লাগে। ফাহিম কিছু বলার আগেই জেরিন বলে, তোমার বাড়িতে কে কে আছে? ফাহিম বলে এইতো মা বাবা ও ছোট একটা বোন আছে। জেরিন অদ্ভুত ভাবে হাসতে থাকে। সে হাসি যেন থামছেই না। ফাহিম দেখে আশেপাশে কেউই নেই। পুকুরপাড়ে শুধু তারা দুজন দাড়িয়ে কথা বলছে। ফাহিম বলে চলো আমাদের বাড়িতে। জেরিন বলে আমি তো তোদের বাড়িতে চলেই এসেছি। ফাহিম অবাক হয়ে যায়। কি বেপার হঠাৎই জেরিন তাকে তুই করে বললো কেন?


জেরিন বলে কিছু মনে করো না। মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। ফাহিম কিছুটা অবাক হয়। ফাহিম শুনতে পায়, তাদের দিকে কেউ হয়তো আসছে। হেটে আসলে যে আওয়াজ হয় ঠিক সেরকম আওয়াজ হচ্ছে। যেদিক থেকে আওয়াজটি আসছে,ফাহিম সেদিকে তাকায়। সে দেখে তার ছোট বোন আসছে। ফাহিম আবারও জেরিনের দিকে তাকায় ও চমকে যায়। সে দেখে সেখানে জেরিন নেই। এই সাঝ সন্ধাবেলা জেরিন তো এখানেই ছিল। তাহলে মুহূর্তের মধ্যেই কোথায় গেল? ফাহিমের ছোট বোন বলে ভাই তুই সন্ধাবেলা পুকুরপাড়ে একা একা কার সাথে কথা বলিস? ফাহিম ভয় পেয়ে যায় কিছুক্ষণ আগেও তো জেরিন তার সামনে ছিল। তার সাথে কথা বলেছিল। তাহলে জেরিন হঠাৎই কোথায় গেল। না তো সে কল্পনা করছে। না তো সে কোনো স্বপ্ন দেখছে।


ফাহিম বলে কিছু না তুই বাড়ি যা আমি আসতেছি। তার বোন বাড়ি চলে যায়। সে ভাবে হয়তো সে ভূল দেখেছে। বেশি বেশি জেরিনকে নিয়ে ভাবার কারনেই হয়তো এমনটি হচ্ছে। তাই হয়তো জেরিনকে সামনে দেখেছে। ফাহিম বাড়িতে চলে আসে। রাতের বেলা সে ঘুমিয়ে আছে। হঠাৎই কারো স্পর্শে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। সে ঘুম থেকে জেগে, তার রুমে কারো অস্তিত্ব টের পায়। সে বুঝতে পারে তার রুমের ভেতর কেউ আছে।  ভয়ে ভয়ে জিগ্যেস করে কে? কে আমার রুমে? কোনো সাড়া আসে না। ঠিক তখনই কিছু একটা একপাশ থেকে সরে অন্য পাশে চলে যায়। ফাহিম ভয় পেয়ে যায়। অন্ধকারে বোঝাও যাচ্ছে না যে, রুমের ভেতর কে আছে।


কারো পক্ষে রুমের ভেতরে আসা সম্ভবও না। কেননা দরজা তো ভেতর থেকে লক করা।

ফাহিম ভয়ে ভয়ে জিগ্যেস করে কে? তখনি একটা মেয়ে কন্ঠ বলে উঠে আমি! ফাহিম চমকে উঠে। আমি মানে? কে তুমি? আবারো মেয়ে কন্ঠ শোনা যায়, আমি। তুমি আমাকে চিনতে পারছো না? আমি তোমার জেরিন। ফাহিম ভয় পেয়ে যায়। এতো রাতে একটা ঘরে দরজা না খুলেই কিভাবে একটা মেয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো!!! ফাহিম ভয় পায়। সে বুঝতে পারে মেয়েটি আর কেউ না। সে মেয়েটি জেরিন। ফাহিম ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করে তুমি ভেতরে আসলে কিভাবে? জেরিন বলে বা রে আমি তো সবসময়ই তোমার বুকের ভেতর আছি। তোমার হৃদয়ে গেঁথে আছি।


ফাহিম ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করে কে তুমি? সাথে সাথে সে বুঝতে পারে যে মেয়েটি মানে জেরিন তার ঠিক পাশেই বসে আছে। ফাহিম জেরিনের উপস্থিতি টের পাচ্ছে। জেরিন বলে তুমি তো আমাকে কাছেই পেতে চাও? তাই না? আমি সবকিছু ছেড়ে তোমার কাছে চলে এসেছি। আমাকে তোমার করে নাও না। ফাহিম রুমের লাইট জ্বালাতে চাইলেও জেরিন তাকে লাইট জ্বালাতে দেয়নি। সে বলে আমার তো অন্ধকারই পছন্দ। আলো আমার দু চোখের দুষমন। ফাহিম ভয়ে ভয়ে বলছে তুমি এখানে আসলে কিভাবে? অন্ধকারে জেরিন তাকে একটা আলতু করে চুমো দিয়ে বলে, আমি তো সেই সন্ধাবেলায় তোমাদের বাড়িতে এসেছিলাম। তুমিই তো আমাকে সেই পুকুরপাড়ে একা ফেলে এসেছো। ফাহিম বলে তাহলে এতক্ষন তুমি কোথায় ছিলে?


জেরিন বলে কেন? তুমি কি বুঝো না। আমি তো সেই সন্ধাবেলায় তোমার রুমে এসে লুকিয়ে ছিলাম। ফাহিম বলে তোমার এতো সাহস। তুমি এতো রাতে এখানে একা! ফাহিম বলে আচ্ছা  এখন যদি আমি তোমার কোনো ক্ষতি করি তাহলে তুমি সমাজে মুখ দেখাবে কিভাবে? জেরিন বলে এটা কখনোই হবে না। কারন তুমি তো আমাকে ভালোবাসো। ফাহিম একসময় খেয়াল করে পাশের ঘরে একটু একটু আলো জ্বলছে। জেরিন তখন ফাহিমকে একটা চুমো দিয়ে একপাশে সরে যায়। ফাহিম দেখে পাশের রুমে তার মা উঠেছে। তার মা দরজার বাহিরে ফাহিমকে ডাকছে। ফাহিম,,, এই ফাহিম। এতো রাতে তুই কার সাথে কথা বলছিস?


ফাহিম জিহ্বায় কা*ম*ড় দিয়ে বলে সর্বনাশ মা এসে গেছে। তুমি এক কাজ করো তুমি এদিকে আসো। এই আলমারির ভেতর লুকিয়ে পরো। আলমারির ভেতর জেরিনকে রেখে বাহির থেকে আটকিয়ে দেয়। তার মা তখনও দরজা নক করেইই যাচ্ছে। এই ফাহিম একটু দরজা টা খোল তো দেখি। সে রুমের লাইট জ্বালিয়ে ভয়ে ভয়ে দরজা খুলে দেয়। তার মা বলে, বাবা তুই এতো রাতে কার সাথে কথা বলিস? ফাহিম বলে না মা আমি তো কারো সাথে কথা বলছি না। তুমি হয়তো ভূল শুনছো। তার মা বলে তুই আমাকে বোকা বানাতে চাচ্ছিস। আমি খেয়াল করেছি কিছুক্ষণ ধরে কার সাথে যেন কথা বলছিস। আমি ভাবলাম তোর আবার কিছু হলো নাকি।


ফাহিম ভয়ে ভয়ে আলমারির দিকে তাকায়। ভয় টা কিন্তু তার মার জন্য  হচ্ছে। এতো রাতে যদি তার মা আলমারিটা চেক করে। তাহলে তো বিপদ। এতো ভালো একটা ছেলে ঘরে একটা  মাইয়া মানুষ নিয়ে থাকে। কি ভাববে মা। এসব ভাবতে ভাবতে তার অবস্থা খারাপ। তার মা ভালো করে রুমের চারপাশে ঘুরে দেখে। খাটের নিচেও উঁকি দিয়ে দেখে। ফাহিম কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। এখন তার মা আলমারির দিকে যাচ্ছে। এাটা দেখে ফাহিম দৌড়ে তার মায়ের সামনে গিয়ে দাড়ায়। বলে মা তুমি শুধু শুধু কষ্ট করছো। বলছি তো রুমে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। তুমি চলে যাও মা।


কিন্তু তার মা কিছুতেই তার কথা শোনেনা। তার মা তাকে একপাশে সরিয়ে দেয়। ফাহিম মনে মনে ভাবে হায় হায় আজ তো সব শেষ। আমি তো আজ শেষ। ভয়ে তার শরীর ঘেমে পানি পরছে। ফাহিম অন্যদিকে মুখ ফিরে তাকিয়ে আছে.! সে বারবার আল্লাহর নাম নিচ্ছে। হঠাৎই তার মা বলে কোথায় বাবা তোর ঘরে তো কাওকে পেলাম না। ফাহিম ভাবে তার মা হয়তো আলমারিটি খুলে দেখেনি।এতাই সে মনে সাহস নিয়ে তার মায়ের দিকে তাকায়। আর সাথে সাথে সে খুবই ভয় পেয়ে যায়। সে দেখে তার মা হেটে হেটে দরজার কাছে যাচ্ছে। আর এদিকে আলমারির দরজাটিও খোলা। তার মা রুম থেকে বের হবার সাথে সাথে সে আলমারির কাছে যায়। এ.....কি আলমারির ভেতর তো জেরিন নেই। তাহলে জেরিন গেল কোথায়? ফাহিম পুরো রুমজুড়ে তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখে কোথাও জেরিন নেই।


তখনই ফাহিম অনেক ভয় পায়। হায় হায় এটা কি দেখলাম। আমি কি তাহলে স্বপ্ন বলতেই সে দেখে তার খাটের একপাশে মেয়েদের হাতের চুরির ভাঙ্গা অংশ পরে আছে ফাহিম ভাবে যদি এটা স্বপ্নই হতো তাহলে, এই ভাঙ্গা চুরি কোথা থেকে এলো। ফাহিমের মাথায় কিছু ডুকছে না। কি করবে সে। কিছুই বুজতে পারছে না। এতো রাতে জেরিন এখানে কিভাবে আসবে? আর আসলেও এখন জেরিন কোথায় গেল? কিছুক্ষণ ভেবে সে শুয়ে পরে। একসময় ঘুমিয়ে পরে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে রোদের আলো ঘরের বেড়ার ফাকা অংশ দিয়ে উকি দিচ্ছে। এখন তো সকাল। তার কাছে সবকিছুই এখন স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। মানে ভয় লাগছে না। সে প্রতিদিনের মতো কলেজে  যায়। কলেজে গেলে জেরিনের সাথে তার দেখা হয়। 


ফাহিম বলে তুমি কি গতোরাতে আমার বাড়িতে এসেছিলে? জেরিন বলে কি বাজে বকছো তুমি। রাতের বেলা আমি তোমার বাড়ি যাব কেন? আর তাছাড়া আমি তো তোমাদের বাড়িটি চিনিও না। ফাহিম জেরিনকে সবকিছু বলতেই যাচ্ছিল তখনই সেখানে তার বন্ধু-বান্ধব চলে আসে। একসময় সবাই ক্লাস করতে চলে যায়। তারা দুজনেও ক্লাসে যায়। ক্লাস শেষে ফাহিম বলে জেরিন আজ কি তুমি আমার সাথে সেই বকুলতলায় দেখা করতে পারবে? জেরিন বলে ঠিক আছে। তুমি সময়মতো এসো। তুমি তো আবার দেরিতে আসো। ফাহিম বলে না। আমি দেরি করবো না।


দুজন দুজনের কাছে বিদায় নিয়ে বাড়িতে চলে যায়।


চলবে… 


( তৃতীয় পর্ব আসবে আগামীকাল রাত নয়টায় )


গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে,তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার একটা কমেন্টই ভৌতিক গল্পকে নতুন গল্প লিখতে উৎসাহীত করবে। কেননা আমরা আপনাদের কমেন্ট গুলো পর্যবেক্ষণ করে থাকি। আর একটা কথা, আপনার আশেপাশে পরিচিত যারা ভৌতিক গল্প পড়তে পছন্দ করে। তাদেরকে ভৌতিক গল্পে আমন্ত্রন করে গল্প পড়ার সুযোগ করে দিন। যাতে তারাও গল্পগুলো পড়তে পারে। সবাইকে ভৌতিক গল্পের বেপারে জানান ও ভৌতিক গল্প পড়তে উৎসাহিত করুন। দেশ ও দেশের বাইরে, যে যেখান থেকে ভৌতিক গল্প পড়ছেন, সবাইকে অসংখ ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন,অতিশিগ্র আবারো নতুন কোনো গল্প নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হবো।


কপিরাইট: গল্পটির সমস্ত লেখায় লেখকের নিজস্ব লেখা। তাই গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 


গল্প : কালোজাদু (দ্বিতীয় পর্ব) 

লেখক : মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ( সাজু )

প্রকাশ : ২৪এপ্রিল ২০২৪, বুধবার

সময়: রাত ০৯:০০টায়

পূনঃরায় পোষ্ট : “কালোজাদু” গল্প 

ক্রেডিট : ভৌতিক গল্প 

Gmail : bhoutikgolpo51gmail.com


#ভূতের_গল্প #কালোজাদু #ভূতেরগল্প #highlightseveryone #foryoupageシ #কালোজাদু_লিংক #rpambg19 #মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ( সাজু ) #ভূতেরভয়ংকরগল্প #virals #foryou #foryourpage #horrorstory #bhoothfm #bhoot #horror_story #ghost #কালোজাদু_ভৌতিক_গল্প #viralposts  #লেখকমোঃ সাখাওয়াত হোসেন ( সাজু ) #viralpage #viralpost

0 Reviews:

Post Your Review