Thursday, April 18, 2024
Md Sazu Mia
ভূত আছে,ভূত নেই
প্রথম পর্ব
#লেখক_
মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ( সাজু )
©
ভৌতিক গল্প
(গল্পটি এডমিনের অনুমতি ছাড়া কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যদি কেউ এডমিনের অনুমতি ব্যতিত গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করে, তাহলে সে “অমানুষ” ও চোর বলে গন্য হবে। কথাগুলো আপনাদের কাছে খারাপ লাগতে পারে, তাই দুঃখিত! কথাগুলো শুধুমাত্র চো-রদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। যাদের কাজই অন্যের গল্প কপি করে পোষ্ট করা )
গল্পের শুরু এখান থেকে
সেলিম,ফাহিম,লালু,কেয়া,বিউটি ও আমিসহ সবাই একসাথে বসে চা পান করার ফাকে গল্প করছি। হঠাৎই গল্প করার এক ফাকে ভৌতিক বিষয়ে কথা উঠে। তখন আমি গল্পে আরো মনোযোগ দিই। আমার আবার এসব অলৌকিক ও রহস্যময় সবকিছু ভালো লাগে। একজন বলে চল আমরা কোথাও ঘুরে আসি। কয়েকদিনের জন্য কোথাও ঘুরতে গেলে কেমন হয়? আমি বলি ভালো হয় যদি কোনো পুরাতন বাড়ি বা পুরনো স্থানে যাওয়া যায়।
সেলিম বলে তোরা যা ভালো মনে করিস। কেয়া ও বিউটি বলে এসব ভূত টূত হয় নাকি? কোথাই এই পর্যন্ত তো জীবনে একটাও ভূত দেখলাম না। লালু আর ফাহিম বলে নারে তোরা ভূত বিশ্বাস না করলেও, ভূত বলতে কিছু আছে। আমিও বলি থাকতেও পারে। যা আমরা খালি চোখে দেখি না। আর আত্না খারাপ হোক বা ভালো হোক। অশরীরী কিছু থাকলে সেগুলো তো মানুষ দেখতে পারে না। যাদেরকে দেখা দেয় শুধু তারাই এসব ভূত দেখতে পারে। আমার কথা শেষ হতে না হতেই কেয়া ও বিউটি হেসে তা উড়িয়ে দেয়।
বললাম দেখ তোরা শুধু শুধু হাসবি না। আমি আমার দাদা নানুদের কাছে এসব ভূতের বেপারে শুনেছি। আর গল্প, উপন্যাস ও সিনেমায় দেখেছি। একথা শুনে লালু ও ফাহিম হাসে,বলে বেটা সিনেমায় যে ভূত দেখানো হয়,সেগুলো তো সব মেকআপ দেওয়া ভূত। আর বাস্তবে যদি ভূত থাকতো তাহলে কই??? আমি তো কোনো দিন একটা ভূত দেখলাম না। ফাহিম বলে আমার মনে হয় ভুত বলতে আসলে কিছু নেই।আমরা নিজেরাই কাল্পনিক সেই ভাতিক বিষয়গুলো নিয়ে মাতামাতি করি,ভূত না থাকলেও মনের মধ্ে এমন এক ধারনা পোষণ করি,যে কাল্পনিক ভূত যখন বাস্তবে রূপ নেয়।
আমি বলি শোন বড়দের বা মুরব্বিদের কথা একেবারে ফেলনা নয়। তাদের কথা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। দেখ তোরা যেখানে বেড়াতে যাবি আমিও সেখানে যেতে রাজি। এসব বিষয় নিয়ে গল্প করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে আসে। সেলিম বলে আগামীকাল আবার তোরা এই জায়গায় আসবি। তার আগে বাসায় ভেবেচিন্তে আসবি কোথাই ঘুরতে গেলে ভালো হয়। ঠিক আছে বলে যে যার মতো বাড়িতে চলে যায়। সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরছিলাম। হঠাৎই শুনি পাশের বাড়িতে ভৌতিক বিষয়ে আলাপ উঠেছে। আমি তখন না চাইলেও আলাপ শুনতে সেখানে চলে যাই। পাশের বাড়ির ভাবি তাদের বাড়ির বেপারে কি যেন বলছে।
ভাবি বলছে ভূত নাকি আর যায় কিছু করুক অন্তত মানুষের ঘরে প্রবেশ করতে পারে না। এটা শুনে আমি ভাবিকে জিগ্যেস করি, ভাবি ভুত বলতে কিছু আছে বলে আপনার মনে হয়? ভাবি বলে সে তো কোনো দিন চোখে দেখিনাই তবে আমি ছোট থাকতে আমার বাবাকে একবার ভূতে দেখা দিয়েছিল! আমি কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করি কিসের ভুত? আমাকে একটু বলবেন। ভাবি বলে সে অনেক আগের কথা। আমার বাবা তখন বাজার করে বাড়ি ফিরছিল। সাথে বাজারের থলেতে কিছু সবজি ও ইলিশ মাছ ছিল। সেদিন বাড়িতে আসার পথে যে কতো ঝামেলা হয়েছিল । যখন বাবা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল, পথে একজন অপরিচিত লোকের সাথে বাবার দেখা হয়। লোকটি বাবাকে দেখেই বাবার সাথে ভাব জমাতে থাকে।
বাবা লোকটিকে জিজ্ঞেস করে, আপনার বাড়ি কোথায়? আর আপনাকে তো এর আগে কখনোই দেখিনি। লোকটি বলে আমাকে আপনি চিনবেন না। আমি কখন যে কোথায় যাই তা বলে শেষ করা যাবে না। লোকটির কথায় বাবা তখন আগামাথা কিছুই বুঝেনা। কিছুদূর যাবার পর বাবা জিজ্ঞেস করে আপনি যাবেন কোথায়? লোকটি বলে আপনি যেখানে যাবেন,আমিও সেখানে যাব! বাবা বলে আমি তো আমার বাড়িতে যাব। আপনি ঠিক কোথায় যাবেন? একটু ক্লিয়ার করে বলেন তো। কথাটি শুনেই লোকটি বাবার প্রতি খুবই রেগে যায়। মিয়া তুমি বেশি কথা বলো কেন? আর আমারো এতো ধৈর্য নাই।
থলের ভেতর যে ইলিশ মাছটি আছে, আমাকে দিয়ে দাও আমি চলে যাই। আমার আবার খুব খিদে পেয়েছে। বাবা তখন লোকটির পাশের দিকে তাকাতেই অবাক হয় ও ভয় পেয়ে যায়। আর তখনি বাবা খুবই ভয় পেয়ে যায়। তিনি দেখেন লোকটির পায়ে কোনো আঙ্গুল নেই। আর সেটার পা দুটোই ঠিক উল্টো দিকে ঘোরানো। এটা দেখে তো বাবা বুঝে যায়,এটা তো মানুষ না। খারাপ কোনো কিছু হবে। যে কিনা মানুষের রূপ ধারন করে আমার কাছে এসেছে। বাবা তখন আর কিছু না বলে মাছ বের করে আর বলতে থাকে,মিয়া তোমার জন্যই তো মাছটি কিনেছি। তুমি এসেছো ভালো হয়েছে। এই নাও মাছটি ধরো। লোকটি মূহূর্তের মধ্যেই বলতে থাকে যাক ভালোই হয়েছে। ভালোই ভালো মাছটি দিয়েছিস। নয়তো তোর ঘাড় ম*ট*কে দিতাম।
বাবা কোনো কিছু না বলে সামনের দিকে হাটতে থাকে। কিছুদূর যাওয়ার বাবা পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে রাস্তায় ও আশেপাশে কেউ নেই। কিন্তু লোকটি তো এইমাত্র এখানেই ছিল। বাবা ভয়ে ভয়ে বাড়ি চলে আসে। তিনদিন বাবার জ্বর ছিল। তারপর ভালো হয়ে যায়। এইটা ভূত হবে না তো কি মানুষ হবে? আপনি ই বলুন। আমি ভাবির কথা শুনে বলি,আচ্ছা আপনার বাবা কি এখনো বেঁচে আছে নাকি? ভাবি বলে হ্যাঁ বেঁচে আছে। আমি বললাম তো আপনার বাবার সাথে আমি একদিন দেখা করতে চাই। একথা বলে সেখান থেকে চলে আসি।
পরদিন নাস্তা সেরে আড্ডা দিতে বন্ধুদের সাথে বেরিয়ে পরি। রাস্তার একপাশে দেখি সেলিম, ফাহিম ও লালু দাড়িয়ে গল্প করছে। আমি গেলে তারা বলে দোস্ত বিউটি ও কেয়া কেন জানি এলো না। আর কিছুক্ষণের মধ্যে তারা দুজন এসে হাজির। আমি জিজ্ঞেস করি তো কি প্ল্যান করলি তোরা? কোথায় ঘুরতে যাবি? ফাহিম বলে কোথায় যাবি তোরাই বল। আমি সব জায়গাতেই যেতে রাজি আছি। তারা সবাই ঠিক করলো একটি সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যাবে। এটা শুনে আমার মন খারাপ হয়ে যায়। আমি তো যেতে চাই পুরাতন কোনো রাজবাড়ী বা কোনো ঐতিহাসিক জায়গাতে।
তারা সবাই আমার বেপারটি বুঝতে পেরে হাসতে থাকে। তারা বলতে থাকে দোস্ত আমরা সবাই তোর সাথে মজা করলাম। আমরা তো সেই পুরনো বাড়িটিতে যাব,যেখানে তুই যেতে চাচ্ছিস। আমি একথা শুনে তাদের বলি এই না হলে তোরা আমার বন্ধু। আচ্ছা কোথায় যাবি যেন বললি? কেয়া বলে ওই যে পরির দিঘী নামে যে পুরাতন দিঘি আছে সেখানে যাব। আমি বললাম আমরা এতো দূরে যাব তাও মাত্র একটা পুরাতন দিঘি দেখতে!!! সবাই বলতে থাকে নারে সেখানে শুধু দিঘি না একটা পুরাতন বাড়িও আছে। সেখানে নাকি লোকজন মাঝেমধ্যেই ভূত দেখেছে বা পেরানরমাল কিছু ঘটেছে।
আমি বলি তাহলে তো যাওয়াই যায়। কবে যাবি তাই বল। লালু বলে কবে মানে,তোরা টাকাপয়সা রেডি কর। আমরা আগামীকালই বের হতে চাই। কয়েকজন টাকা পয়সার বেপারে কিছু না বললেও আমি বলি,আমার তো এই মুহুর্তে এতো টাকা হবে না। তাহলে এখন কি করা যায়। একথা শুনে তারা সবাই বলতে থাকে আমরা আছি না। তুই চিন্তা করিস কেন? ঘুরে আসার পর তুই আমাদের টাকা দিয়ে দিয়ে দিস তাহলেই তো হবে। আমি বলি তোদের মতো বন্ধু থাকলে আর কিছু লাগে নাকি?
আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে আগামীকাল যাওয়া যাক। দুপুর বেলা সবাই রেডি হয়ে এখানে চলে আসবি। গাড়ির ব্যবস্থা ফাহিম করবে। ঠিক আছে বলে সবাই চলে যায়। আমিও সবার মতো বাড়ি চলে আসি। রাতে আমি আমার ক্যামেরাটা মূছে রাখি। পরদিন সেই ক্যামেরাটা আমি সেখানে নিয়ে যাব। পরদিন সবাই একটি গাড়িতে চড়ে সেই প্ল্যান করা জায়গার উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরি। আমরা মোট ছয়জন ছিলাম। গাড়িতে সবাই গল্প করছে। আমি চুপ করে বসে আছি। হঠাৎ করেই আমাদের গাড়ির সামনে একটা বয়স্ক মহিলা চলে আসাতে ড্রাইভার গাড়ির কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে। গাড়িটি সাথে সাথেই উল্টে যায়।
সবাই কাতরাতে থাকে। আমি ও পিঠে অনেক ব্াথা পাচ্ছি। সাথে সাথে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। ওহ মা গো আমি এতোক্ষন তাহলে স্বপ্ন দেখেছি। যাক বাঁচা গেল। এতো ভয়ানক স্বপ্ন দেখলে তো এমনই খারাপ লাগবেই। পরদিন দুপুরে রেডি হয়ে রাস্তার সেই জায়গাটায় এসে দাড়াই। দেখি কেউ আসেনি সেখানে। আরে আমি এতো তারাতারি চলে আসলাম। আচ্ছা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি। পাশেই একটি দোকান ছিল। আমি দোকান থেকে একটা সিগারেট নিয়ে ধরাই ও টানতে থাকি।
ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
এক পর্যায়ে দেখি দূরে কেয়া ও বিউটি আসছে। তাদের দেখে আমি সিগারেট টি ফেলে দেই। কিছুক্ষণের মধ্যে সবাই এসে হাজির। ততক্ষণে গাড়িও চলে এসেছে। আমরা সবাই গাড়িতে উঠে বসি। আমরা সবাই নানান গল্পে মজেছি। কিছুক্ষণের পর গাড়িটি একটা জঙ্গলের ভেতরের রাস্তা দিয়ে যেতে লাগলো। দেখি রাস্তার দুই পাশে দেখি শুধু জঙ্গল আর জঙ্গল। হঠাৎই আমাদের গাড়িটির সামনে একটা পাগলি মহিলা এসে দাড়ায়,গাড়িটির এতো বেশি গতিবেগ ছিল। যার জন্য গাড়িটি বৃদ্ধা মহিলাটির উপর দিয়ে চলে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই গাড়িটি একটি ঝাঁকি খেয়ে থেমে যায়। সবাই দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে যাই।
রাস্তায় আমরা কাওকে দেখতে পাচ্ছি না। এমনকি গাড়ির নিচেও তো কাওকে দেখছি না। তাহলে এইমাত্র যে মহিলাটিকে গাড়িটি চা*পা দিল,সেই মহিলাটি এখন কোথায় গেল? আমরা আশেপাশে ভালোভাবে খুজে দেখি কেউ নেই। এমনকি সেই মহিলাটিকেও খুঁজে পাওয়া গেল না। অবশেষে আমরা সবাই গাড়িতে উঠে বসি। সবাই কেমন যেন ভয়ে ভয়ে আছে। গাড়িতে উঠলে,পূনরায় গাড়ি চলতে থাকে। একপর্যায়ে আমি খেয়াল করি গাড়িতে আমার পেছনের সিটে সেই বৃদ্ধা মহিলাটি বসে আছে। মহিলাটি দেখতে এতোটাই বিভৎস ও ভয়ানক লাগছিল। মহিলাটির একটা চোখ নেই মুখ থে*ত*লে গেছে। মনে হচ্ছে এইমাত্র এ*ক্সি*ডে*ন্ট হয়েছে মহিলাটির।
এটা দেখে আমি খুবই ভয় পাই ও চিৎকার করতে থাকি। মহিলাটি আমার খুবই কাছে চলে আসে। ঠিক তখনই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। উফ এটাও তাহলে স্বপ্ন ছিল। যাক বাবা কি ভয়ানক স্বপ্ন ছিল এটা। আমি সবচাইকে জিজ্ঞেস করি এটা কোন জায়গা? কতদূর এসেছি আমরা? ফাহিম বলে এইতো আর কিছুক্ষন, তাহলেই আমরা পৌছে যাব সেখানে। কেয়া ও বিউটি দুজনেই ঘুমাচ্ছে। লালুও ঘুমাচ্ছে। শুধু ফাহিম ও সেলিম জেগে আছে। কিছুক্ষণ পরই আমি দেখি রাস্তার একপাশে সেই মহিলাটি। যেই মহিলাটিকে আমি কিছুক্ষণ আগে স্বপ্নে দেখেছি।
আমি খুবই ভয় পেয়ে যাই সাথে অবাক হই। কিভাবে এই মহিলাটি এখানে এলো! এটা তো আমার স্বপ্নে দেখা সেই ভয়ানক মহিলাটি। নাকি আমি আবারও স্বপ্ন দেখছি। গায়ে একটা চিমটি কেটে উফ্্্ ব্েথায় আতকে উঠি। তাহলে তো আমি স্বপ্ন দেখছি না। সত্যি আমি তখন ভয় পাই। তখন সবাইকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। তারা সবাই বিষয়টি হাসাহাসি করে উড়িয়ে দেয়। কেউ পাত্তা দেয়নি। কিছুদূর যাবার পর আমি মহিলাটিকে আবারো রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকতে দেখি। মনে হচ্ছে কিছু একটা বলতে চেষ্টা করছে। আমি তাদের সবাইকে বলি দেখ কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়ির সামনে রাস্তায় একটি বয়স্ক মহিলা কে দেখতে পাবি। কিন্তু কিছুদূর যাবার পর রাস্তায় কোনো মহিলার দেখা মেলেনি। মহিলার এ*ক্সি*ডে*ন্ট হবে তো দূরের কথা।
একসময় আমরা সেই পুরনো বাড়িতে চলে আসি। ততক্ষণে প্রায় সন্ধা হয়ে গেছে। গাড়ি থেকে নেমে সবাই জিনিসপত্র নিয়ে সেই বাড়িটির কাছে যাই। সেখানে একজন মধ্ বয়স্ক লোক দেখতে পাই। ওনাকে থামিয়ে জিগ্যেস করি,আচ্ছা ভাই এখানে কি রাতে থাকার মতো কোনো বাসা বা ঘর হবে? লোকটি বলে হ্যাঁ বাপু হবে তবে মাত্র দুইটা রুম,কিন্তু আপনারা তো অনেক লোক।
ফাহিল বলে সে কোনো সমস্যা হবে না আমরা সেটা ঠিক করে নেব। তো কোথায় আপনার বাসাটা আমাদের একটু নিয়ে চলুন। লোকটি সামনে সামনে হাটতে থাকে। আমরা সবাই গাড়ির ড্রাইভারকে বিদায় জানিয়ে লোকটির পিছু পিছু যেতে থাকি। দূর থেকে দেখে পুরনো বাড়িটিকে ভূতের বাড়ি বলেই মনে হচ্ছে।
মনে হচ্ছে বাড়িটি আমাদেরকে ইশারায় ভয়ানকভাবে ডাকছে। আমিও লোকটির পিছু পিছু যাই। কিছুক্ষন হাটার পর আমরা জঙ্গলের ভেতর একটা বাসা দেখতে পাই। দূর থেকে দু একটা লাইট জ্বলতে দেখি। কাছে গেলে দেখি লোকটির বউ আসে। তিনি জিজ্ঞেস করে এরা কারা? লোকটি বলে আজ এরা সবাই আমাদের বাড়িতে থাকবে বিনিময়ে আমরা কিছু টাকাও পাব। টাকার কথা শুনে তার বউ রাজি হয়ে যায়। পরে আমরা বাড়িটির একপাশে দুুইটা রুম পেয়ে সেখানে উঠি। সমস্যা একটাই দুইটা মাত্র রুমে আমরা ছয়জন কিভাবে থাকব। কেয়া ও বিউটিকে এক রুম দেওয়া হলো। বাকি এক রুমে আমরা চারজন গাদাগাদি করেই থাকবো।
আমরা সবাই বসে গল্প করছি। ফাহিমকে বলি তুই খাবার নিয়ে আয়। ফাহিম বলে খাবার আনতে যাবো কেন? অনলাইনেই খাবারের অর্ডার করে দেই। আমরা সবাই বলি তাও ভালো। ফাহিম অনলাইনে সবার জন্ খাবার অর্ডার করে। ততক্ষণে আমি ও লালু আশেপাশে ঘুরে দেখার জন্য বেরিয়ে পরলাম। লালু ও আমি দেখি কিছুদূর সামনেই একটা পুকুর দেখা যাচ্ছে। আমার মনে হয়,এই সেই পুরাতন পুকুর। যেখানে কেউ ভয়ে সচরাচর যায়না। আমি লালুকে বললাম,চল পুকুরের ঐদিকটা থেকে একটু ঘুরে আসি। লালুও বলে চল যাই। দুজনে হাটতে হাটতে পুকুরটির কাছেই চলে যাই।
আমরা দুজনে পুকুরের পাড়ে দাড়িয়ে গল্প করছি। হঠাৎ আমার চোখ যায় পুকুরের অপর প্রান্তে। যেখানে আমি দেখি কি যেন একটা দেখা যাচ্ছে। আরেকটু ভালো করে দেখে বুঝতে পারি, পুকুরের উপর হেলে পরা একটি তালগাছে কিছু একটা শুয়ে আছে। সেটা দেখতে সাদা কাপড়ে মোড়ানো বোঝা যাচ্ছে। আমি লালুকে পুকুরের অপর প্রান্তে দেখিয়ে জিগ্যেস করি,লালু তুই কি পুকুরের অপর প্রান্তে কিছু একটা দেখতে পাচ্ছিস? লালু ভালো করে দেখে বলে হ্যাঁ রে আমার মনে হচ্ছে তালগাছটির উপর কিছু একটা শুয়ে আছে।
আমার মনে হয় এই সময় আমাদের এখানে থাকাটা উচিৎ নয়। চল আমরা বাসায় ফিরে যাই। লালু বলে হ্যাঁ চল আমারো জায়গাটা সুবিধা মনে হচ্ছে না। তখনি তালগাছে শুয়ে থাকা সাদা জিনিসটা শূন্যে ভেসে উঠে। এটা দেখে আমরা দুজনেই খুব ভয় পাই। আমরা সেখান থেকে ভয়ে চলে আসি। এসে দেখি তারা সবাই গল্প করছে। লালু ও আমি যা দেখেছি এইমাত্র, সে বেপারে তাদের বললে তারা বিষয়টিকে হেসে উড়িয়ে দেয়।
চলবে..
(বাকিঅংশ আসবে আগামীকাল রাত নয়টায়)
দেশ ও দেশের বাইরে যে যেখান থেকে ভৌতিক গল্প পড়ছেন,সবাইকে অসংখ ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন,অতিশিগ্র আবারো নতুন কোনো গল্প নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হবো।
গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে,তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার একটা কমেন্টই ভৌতিক গল্পকে নতুন গল্প লিখতে উৎসাহীত করবে।আর একটা কথা ,আপনার আশেপাশে পরিচিত যারা ভৌতিক গল্প পড়তে পছন্দ করে। তাদেরকে ভৌতিক গল্পে আমন্ত্রন করে গল্প পড়ার সুযোগ করে দিন। যাতে তারাও গল্পগুলো পড়তে পারে।সবাইকে ভৌতিক গল্পের বেপারে জানান ও ভৌতিক গল্প পড়তে উৎসাহিত করুন।
কপিরাইট: গল্পটির সমস্ত লেখায় লেখকের নিজস্ব লেখা। তাই গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
গল্প : ভূত আছে ভূত নেই (প্রথম পর্ব)
লেখক : আনোয়ার হোসেন
প্রকাশ : ১৭এপ্রিল ২০২৪, বুধবার
সময়: রাত ০৯:০০টায়
পূনঃরায় পোষ্ট : “ভূত আছে ভূত নেই” গল্প
Gmail :
bhoutikgolpo51gmail.com
#ভূতের_গল্প
#ভূত_আছে_ভুত_নেই
#ভূতেরগল্প
#highlightseveryone
#foryoupageシ
#ভূত_আছে_ভূত_নেই_লিংক
#rpambg17
#আনোয়ারহোসেন
#ভূতেরভয়ংকরগল্প
#virals
#foryou
#foryourpage
#horrorstory
#bhoothfm
#bhoot
#horror_story
#ghost
#ভূত_আছে_ভূত_নেই_ভৌতিক_গল্প
#viralposts
#লেখক
মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ( সাজু )
#viralpage
#viralpost
No comments:
Post a Comment
‹
›
Home
View web version
No comments:
Post a Comment