বাসর ঘরে নতুন বউ Md Sazu Mia - Md Sazu Mia
SUBTOTAL :

Follow Us

বাসর ঘরে নতুন বউ Md Sazu Mia

বাসর ঘরে নতুন বউ Md Sazu Mia

Short Description:

Product Description

 

ভূত বর
চতুর্থ পর্ব
#লেখক_মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সাজু

© ভৌতিক গল্প (গল্পটি এডমিনের অনুমতি ছাড়া কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যদি কেউ এডমিনের অনুমতি ব্যতিত গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করে, তাহলে সে “অমানুষ” ও চোর বলে গন্য হবে। কথাগুলো আপনাদের কাছে খারাপ লাগতে পারে, তাই দুঃখিত! কথাগুলো শুধুমাত্র চো-রদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। যাদের কাজই অন্যের গল্প কপি করে পোষ্ট করা) নিত্য-নতুন গল্প পড়তে আমাদের website ফলো করে পাশেই থাকুন।

গল্পের শুরু এখান থেকে 👇👇
নিলা জলদি পানি নিয়ে আসে। খানিক সময় পানি ঢালতেই অন্তারর জ্ঞান ফিরে। সে বলতে থাকে আমার কি হয়েছিল! এতোকিছু হয়ে গেলো তবুও পাষণ্ড সাজু একটি বারের জন্যও অন্তারর কাছে আসেনি। অথচ এই সাজু একসময় অন্তার কে কতোটা ভালোবাসতো। কতো রাত জেগে কথা বলতো। অন্তার  চোখ মেলে তাকিয়ে আছে শুধু। তার চোখজোড়া পানিতে টলমল করছে। সে কোনো কথায় বলছে না। একসময় সাজু  রুম থেকে বেরিয়ে যায়। অন্তার  আড়চোখে সাজু র চলে যাওয়া দেখে। এই প্রিয় মানুষটা তার সাথে এমনটা করবে এটা অন্তার  কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। সংসারে রাগ_অভিমান নেই। নেই কোনো ঝগড়া। শুধু শূুধু লোকটা কেন যে এমন করছে কে জানে! অন্তার  চোখের পানি মুছতে মুছতে বলতে থাকে,  আল্লাহ তুমি আমার কপালে কেন এমনটা রেখেছো? আমি কি অন্যায় করেছিলাম, যার শাস্তি স্বরুপ তুমি আমাকে এই পরিস্থিতিতে ফেলেছো। কান্নাজড়িত কন্ঠে সে বলতে থাকে আমার আর এসব ভালো লাগছে না।

খবর পেয়ে অন্তারর বাড়ি থেকে লোকজন আসে। তারা সাজু কে কটাক্ষ করে বলতে থাকে আমাদের মেয়েটার জীবনটা নষ্ট করলি। তোকে আমরা দেখে নেবো। চল মা তোকে আর এই বাড়িতে রাখবো না। আজই আমার সাথে চল। অন্তার কে তার বাড়ির লোকজন টানতে টানতে রাস্তার দিকে নিয়ে যেতে থাকে। কেউ কিছু বলতে চাইলেও কাজ হয় না। সাজু  তখনো রুমে শুয়ে আছে। যখনই সে অন্তারর চলে যাওয়ার খবরটা শুনে। তখনই সে দৌরাতে থাকে। সাজু  সোজা অন্তারর সামনে দুহাত দুদিকে বাড়িয়ে হাটুগেড়ে বসে বলতে থাকে তুমি কোথাও যেতে পারবে না। তুমি আমাকে রেখে এভাবে চলে যেতে পারো না। তুমি না আমাকে অনেক ভালোবাসো। তাহলে এখন আমাকে রেখে চলে যাচ্ছো কেন। অন্তারর সাথে থাকা লোকটা এক ধাক্কায় সাজু কে মাটিতে ফেলে দেয়।

সাজু কান্নাজড়িত কন্ঠে বারবার বলতে থাকে আমার প্রিয়তমাকে তোমরা নিয়ে যেও না। ওকে ছাড়া আমি বাঁচবো না। খানিক সময়ের জন্য অন্তার  সাজুর এরূপ অবস্থা দেখে থেমে যায়। সাজুকে এভাবে কান্না করতে দেখে অন্তার  আবেগাপ্লুত হয়ে পরে। সে সাজুকে কিছু বলতেই যাচ্ছিল। তখনই পাশে থাকা লোকটি অন্তার কে টানতে টানতে বাড়িতে নিয়ে যেতে থাকে। সাজু  পাগলের মতো মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কান্না করতে থাকে।তোমরা কে কোথায় আছো আমার অন্তার কে আটকাও। তাকে যেতে দিও না। আমি তাকে ছাড়া বাঁচবো না। অন্তার  আবারো পিছু ফিরে তাকায়। সাজু  একটা হাত উঁচু করে অন্তারর দিকে বাড়িয়ে রাখে। কিন্তু তাতেও অন্তার  কিছু করতে পারছে না। সাথে থাকা লোকটি অন্তারকে টানতে টানতে একসময় গাড়িতে চড়ে বসে আর মুহুর্তের মধ্যেই অন্তার  তাকে রেখে তার বাপের বাড়ি চলে যায়। সাজুর কান্না যেন থামে না। সে বারবার বলতে থাকে আমার অন্তারকে এনে দাও। আমার তাকে চাই। 

তখন তার মা সেখানে গিয়ে বলে তোকে আগেই বলছিলাম এসব ভূত প্রেত খেলা বাদ দে। এখন দেখলি তো এর পরিনাম কি হলো। তারা তোকে ফেলে দিলেও আমি মা হিসেবে তো তোকে ফেলতে পারি না। বাবা তোর কি থেকে কি হয়ে গেল। আমি কালই তোকে ভালো একটা কবিরাজ দেখাবো। অন্তার  চলে যাওয়াতে সে পাগলপ্রায়। নাওয়া_খাওয়া বাদ দিয়ে সারাক্ষণ সে বসে থাকে। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলেও চুপ করে থাকে। কারো সাথে তেমন কথাও বলে না। একসময় কবিরাজ আসে। সাজুর মা কবিরাজকে বিস্তারিত জানায়। এটা শুনে তিনি বলেন। আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আমি দেখছি কি করা যায়। সাজু  এসব কবিরাজ বিশ্বাস করে না। তাই সে এসবের মধ্যে যেতে রাজি নয়। তাকে একরকম জোড় করে কবিরাজের সম্মুখে হাজির করানো হয়।

কবিরাজ সাজু কে কয়েকটা প্রশ্ন করে। যার সবগুলোর উত্তর সাজু  দেয়। আচ্ছা একটা কথা বলুন তো আপনার ছেলে কোথায় যেতো? জবাবে তার মা বলে আমার ছেলে তো তেমন কোথাও যেতো না। তিনি বাড়ির চারপাশে আরো কিছুক্ষণ ঘুরে দেখে। কবিরাজ বটগাছটির কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ বটগাছটির তাকিয়ে থাকে। আচ্ছা এই বটগাছটি কেউ লাগিয়েছিল নাকি এমনিতেই হয়েছিল? সাজুর মা বলে গাছটি তো এমনিতেই হয়েছিল। আপনার ছেলের উপর খারাপ কোনো আত্নার বদনজর পরেছে। জলদি আপনার ছেলের উপর থেকে এই খারাপ আত্নাকে সরাতে হবে। নয়লে আপনাদের জন্য সামনে খুবই খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে। আর এই যে বটগাছটি দেখছেন। এটা আপনি আমি শুধু গাছ হিসেবে দেখছি। কিন্তু না এটা গাছ হলেও সেই অশুভ আত্নাটি কিন্তু এই বটগাছটিতেই বিচরণ করে। এই আত্না কিন্তু খুবই ভয়ঙ্কর। যাকে একবার পেয়ে বসে তার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তার পিছু ছাড়ে না।

আপনার ছেলেকে দেখে রাখবেন। সামনে তার জন্য বিপদ অপেক্ষা করছে। কবিরাজের মুখে এসব কথা শুনে সাজুর মা কান্না করতে থাকে। আমার ছেলেটার কি হয়ে গেল। আপনি একটা কিছু করুন। কবিরাজ বলে আমি দেখছি কি করা যায়। আর একটা কথা, দুদিন বাদেই কিন্তু অমাবস্যা রাত। আপনার ছেলেকে যেভাবেই হোক অমাবস্যা রাতে ঘর থেকে বের হতে দেবেন না। নয়তো আমি যা আন্দাজ করতে পারছি তা খুবই ভয়ঙ্কর হতে পারে। প্রয়োজন হলে আপনার ছেলের পায়ে শিকল বেধে রাখুন। আর একটা কথা বলে যাচ্ছি।  এই দুদিনে কিন্তু আপনাদের বাড়িতে ভয়ঙ্কর কোনোকিছুর আগমন ঘটতে পারে। তাই আমি সবাইকে সাবধান করে যাচ্ছি। বাড়ির আশেপাশে কোনো অপরিচিত লোক দেখলে তাদের থেকে দূরে থাকবেন। ভূলেও তাদেরকে আপনাদের বাড়িতে আসতে দিবেন না। 

সেটা কিন্তু অনেক কৌশল অবলম্বন করতে পারে। তাই আপনাদের সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী। অমাবস্যা গেলে আমি আমার কাজ শুরু করবো। কেননা অমাবস্যা এলে আত্নাগুলো বেশি ভয়ঙ্কর ও শক্তিশালী হয়ে উঠে। কবিরাজের মুখে এসব কথা শুনে তারা ভয় পেয়ে যায়। তাহলে সত্যিই কি কবিরাজের কথামতো সামনে কোনো বিপদ আসতে যাচ্ছে। সাজু  তখন দৌরে বটগাছের কাছে যায়। হঠাৎই সাজুর মাঝে পরিবর্তন দেখে তার মা ভয় পেয়ে যায়। তিনিও দৌড়ে বটগাছের কাছে যায়। আর তারা সাজু কে ধরে বাড়িতে নিয়ে যায়। কবিরাজ চলে গেলে সাজু কে বড় একটি শিকল দিয়ে ঘরের পিলারের সাথে বেধে রাখা হয়। সাজু  বারবার বলছে ঐ যে আমার অন্তার  বটগাছে বসে আমাকে ডাকছে। নিলা ও তার মা সাজুর পাশে বসে আছে। নিলা বলে ভাইয়া এটা তোমার মনের ভূল।এখানে কেউই নেই। সাজু  বলে আছে ঐ যে অন্তার  গাছের ডালে বসে ইশারায় আমাকে ডাকছে। আমাকে যেতে দাও। আমি অন্তার  কাছে যাবো। সে বারবার শিকল টানতে থাকে। কিন্তু লোহার শিকল কি আর ছিড়ে যায়। তার সকল চেষ্টা বৃথা যায়।

থামুন! আপনাকেই বলছি। আমরা নিয়মিত রাত নয়টায় গল্প দিয়ে থাকি। তাই কমেন্ট বক্সে Next/নেক্সট লেখা থেকে বিরত থাকুন। হাতজুড় করে বলছি, কমেন্টে Next লেখার অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন। আপনার থেকে আমরা সুন্দর রিভিউ আশা করি। 

মাঝরাতে সবাই ঘুমিয়ে আছে। হঠাৎই সাজুর ছোটবোন নিলার ঘুম ভেঙ্গে যায়। নিলা উঠে পানি পান করতে গেলে দেখতে পায় সাজুর রুমের লাইট জ
অন করা। একটু এগোতেই সে দেখে রুমের দরজাটিও খোলা। নিলা সাজুর রুমে উঁকি দিলে দেখতে পায় সেখানে তার ভাইয়া নেই। একি ভাইয়া কোথায় চলে গেল। ভাইয়ার পায়ে লোহার শিকল বাধা ছিল। লোহার শিকল সমেত তার ভাই কোথায় চলে গেল। হঠাৎই নিলা বাহিরে একটি আওয়াজ শুনতে পায়। নিলা হাতে টর্চ নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে পরে। হাটতে হাটতে একটু সামনে গেলে সে বুঝতে পারে আওয়াজটি বটগাছ থেকে আসছে। নিলা ভয় পেয়ে যায়! বটগাছ থেকে কে আওয়াজ করছে। তার মানে সাজু  এখন বটগাছে! না না এ আমি কি ভাবছি ! নিলা আস্তে আস্তে বটগাছের এগোতে থাকে। হঠাৎই একটা বাদুর পাখা ঝাপটিয়ে পাশ কাটিয়ে সেখান থেকে উড়ে যায়। মুহুর্তের মধ্েই নিলা ভয় পেয়ে যায়। সে ভয়ে নিজের গায়ে থুথু দেয়। ভয় পেলে নাকি থুথু দিলে ভয় কেটে যায়।

এখনো বটগাছ থেকে আওয়াজটি শোনা যাচ্ছে। নিলা মনে সাহস নিয়ে বটগাছে টর্চ ধরতেই দেখতে পায় সাজু  বটগাছের ডালে লোহার শিকলে ঝুলে আছে। তার হাত পা ও মুখ নিচের দিকে ঝুলছে। এটা দেখামাত্র নিলা ভয়ে চিৎকার করতে করতে সেখান থেকে দৌড়ে পালাতে থাকে। সে এতোটাই ভয় পেয়েছে যা বলার মতো নয়। বাড়িতে আসতেই সে অবাক হয়ে যায়। সাজুর রুম তো ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করা আছে। বটগাছটিতে সাজু  ঝুলে থাকলে তার রুমে এখন কে আছে! সে তার মাকে ডেকে সবকিছু খুলে বলে। নিলার কথা শুনে তার মা ভয় পেয়ে যায়। তারা সাজুর রুমের সামনে গিয়ে ডাকতে থাকে। সাজু  বাবা দরজাটা খোল তো। কিছুক্ষণ পর সাজু  দরজা খুলে দেয়। তার পায়ে লোহার শিকল বাধা আছে। নিলা সাজু কে দেখে ভয় পেয়ে যায়। ভাইয়া তুমি এখানেই ছিলে?

সাজু  বলে হ্যাঁ আমি রুমেই শুয়ে ছিলাম। নিলা বলে তাহলে আমি যে তঠিক তোমার মতোই দেখতা কাওকে সেই বটগাছে ঝুলে থাকতে দেখেছি। ভাইয়া তুমি কি ঘর থেকে বের হয়েছিলেন! নিলার মুখে একথা শুনে তার মা বলে বোকা মেয়ে দেখছিস না তোর ভাইয়ার পায়ে শিকল বাধা আছে। সে কি শিকলে বাধা অবস্থায় বাহিরে যেতে পারবে!  নিলাও বেপরটা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরে। ভাইয়া তো এখানেই শিকলে বাধা ছিল। তাহলে বটগাছে তার মতোই দেখতে সেটা কি ছিল! ভাবতেই নিলার গা শিউরে উঠে। কতোটা ভয়ঙ্কর ছিল বটগাছে ঝুলানো থাকা সেই চেহারাটি। যাই হোক তাদেরকে সাবধানে থাকতে হবে। তারা আবারো রুমে গিয়ে শুয়ে পরে। সাজু  মাঝেমাঝে একা একা কথা বলছে। 

পরদিন সকালে নিলা বটগাছের নিচে গেলে দেখতে পায় গাছের নিচে অনেক পাতা পরে আছে। এই ডালেই রাতের বেলা সাজু কে ঝুলে থাকতে দেখেছিল। রাতের বেলা বিষয়টা কতোটা ভয়ঙ্কর ছিল। এখন দিনের বেলা সবকিছু ঠিক আছে। নিলা ভাবে আচ্ছা ভূতেরা রাতেই কেন বের হয়। দিনে কেন তাদের আনাগোনা হয়না। তারা কি দিনের বেলা ঘুমায় নাকি। তবে যাই হোক রাতে এভাবে একা বটগাছের নিচে আসাটা তার ঠিক হয়নি। সে বেশিক্ষন বটগাছের নিচে থাকে না। এদিকে সাজু  পাগলের মতো আচরন করতে থাকে। অন্তারর কাছে যাওয়ার জন্য সে ব্যকুলহয়ে উঠে। বার বার সে শিকল টানে। বলে আমাকে ছেড়ে দাও আমি যেতে চাই। 

অন্য দিকে সাজুর এখানে থেকে যাওয়ার পর অন্তারর মাঝে অস্থিরতা কাজ করছে। তার কিছুই ভালো লাগছে না।সে বার বার সাজুর কাছে আসতে চায়। কিন্তু বাড়ির লোকজন তাকে কিছুতেই আসতে দেয় না। বলে যে ছেলে নিজেই নিজেকে সামলাতে পারে না, সে আর তোকে কি দেখবে। তোর কি খেয়াল রাখবে। অন্তার  বলে তাইতো আমি সেখানে যেতে চাই। আমি তার খেয়াল রাখবো। না জানি এখন সে কি অবস্থায় আছে। সাজুর জন্য অন্তার  খারাপ লাগে। বুকটা খা_খা করে। কিছুই ভালো লাগেনা তার। এভাবে থাকলে সে নিজেও অসুস্থ হয়ে যাবে। অন্তার  চিৎকার করে বলতে থাকে আমাকে আমার স্বামীর কাছে নিয়ে চলো। অন্তার  কান্না করতে থাকে। আর একসময় সে কান্না করতে করতে অজ্ঞান হয়ে যায়। 

এদিকে সাজু  তার পায়ের শিকল টানতে থাকে। তার মা এসে বলে বাবা টানিস না। পায়ে দাগ পরে যাবে তো। আর মাত্র দুইটা দিন। তারপর কবিরাজ এসে সবকিছু ঠিক করে দেবে। সাজু  বলে মা আমার যে এভাবে শিকলবন্দী হয়ে থাকতে ভালো লাগছে না। আমাকে জলদি মুক্ত করে দাও। আমি অন্তারর কাছে যাবো। তার মা বলে বাবারে আর দুইটা দিন কষ্ট কর। তুই ঠিক হয়ে গেলেই আমরা আবার অন্তার কে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসবো। সাজু  অন্তারর কথা ভেবে কান্না করতে করতে মাটিতে বসে পরে। অন্য দিকে অন্তারর মাথায় পানি ঢাললে কিছুক্ষণের মধ্যে সে স্বাভাবিক হয়। আর চোখ মেলে তাকাতেই সে আবারো বলতে থাকে আমাকে ওখানে নিয়ে চলো। আমি আমার স্বামীর কাছে যাবো। তার মা এসে বলে মারে কান্না করিস না। আমরা তোর দুঃখকষ্ট একটু হলেও বুঝি।এভাবে কান্না করে নিজেকে আর কষ্ট দিস না মা। 

মা তুমিই বলো এই সময় আমি না কান্না করে থাকতে পারি। আমার স্বামীর কি হয়ে গেল মা। ওর কি হয়ে গেল বলে সে তার মাকে জড়িয়ে ধরে আবারো কান্না করতে থাকে। একসময় সন্ধা হয়ে আসে। এদিকে সাজু  শিকলে বাধা অবস্থায় কেমন যেন আচরন আচরন করতে থাকে। তখন নিলা সাজুর রুমে খাবার নিয়ে যায়। সাজু  নিলার সাথে অদ্ভুত ভঙ্গিতে কথা বলতে থাকে। সে খাবেরের প্লেট হাতে নিয়ে বাহিরে ছুড়ে মারে। সাজুর এরূপ আচরন দেখে নিলা সেখান থেকে বের হয়ে আসে। তার মা বলে বাজান তুই এরকম করছিস কেন! দেখ বাজান তুই যদি না খাস তাহলে তোর শরীরটা ঠিক থাকবে কি করে বল। আর রাগ করিস না তো। নে এইবার দুইটা ভাত খেয়ে নে বলেই হাতে খাবার নিয়ে সাজুর মুখের কাছে নেয়। আর তখনি সাজু  তার মায়ের হাতে কামড় বসিয়ে দেয়। তার মা চিৎকার করে উঠে। তুই এটা কি করলি! বলেই সাজুর গালে সজোরে একটা থাপ্পড় মারে। নিলা তার মাকে শান্তনা দিয়ে বলে মা ভাইয়াকে মারছো কেন! ও তো এখন নিজের বসে নেই। 

দেখছো না কেমন আচরন করছে। তাকে মেরে কি লাভ! তার মা কান্না করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। তখন সাজু  নিলাকে কাছে ডাকে। এই নিলা এদিকে আয় তো। নিলা ভয়ে তার কাছে যেতে রাজি হয়নি। সে বলে ভাইয়া তোমার কিছু বলার থাকলে বলো। আমি এখানেই আছি। তখনি সাজু  রাগান্বিত হয়ে দ্রুত নিলার দিকে তেড়ে আসে। কিন্তু তার পায়ে শিকল থাকার জন্য সে শিকলে টান খেয়ে মাটিতে পরে যায়। নিলা দৌড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। সন্ধা হতে না হতেই সাজু  এরূপ আচরন করছে। রাতে না জানি সে কি করে বসে। এটা ভেবেই তার মা ভয় পাচ্ছে। নিলা বলে মা ভাইয়া তো আজ বেশি পাগলামী করছে। আমার কেন জানি এখন ভাইয়ার সামনে যেতেও ভয় লাগে। 
তার মা বলে এইতো মা আর দুইটা দিন। তারপর কবিরাজ সবকিছু ঠিক করে দেবে।

চলবে…

(গল্পটির পরবর্তী অংশ আসবে আগামীকাল রাত ঠিক নয়টায়)

গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে,তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। গল্পটিতে সবার কমেন্ট আশা করছি। আপনার একটা কমেন্টই ভৌতিক গল্পকে নতুন গল্প লিখতে উৎসাহীত করবে। আমরা সবার কমেন্টই পর্যবেক্ষণ করে থাকি। আর একটা কথা, আপনার আশেপাশে পরিচিত যারা ভৌতিক গল্প পড়তে পছন্দ করে। তাদেরকে ভৌতিক গল্পে আমন্ত্রন করে গল্পগুলো পড়ার সুযোগ করে দিন। যাতে তারাও গল্পগুলো পড়তে পারে। সবাইকে ভৌতিক গল্পের বেপারে জানান ও ভৌতিক গল্প পড়তে উৎসাহিত করুন। তাতে আমরা আপনাদের প্রতি চির-কৃতজ্ঞ থাকবো।

কপিরাইট: গল্পটির সমস্ত লেখায় লেখকের নিজস্ব লেখা। তাই গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। 

গল্প : ভূত বর (চতুর্থ পর্ব) 
লেখক : মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সাজু
প্রকাশ :  ২০২৪, শনিবার
সময়: রাত ৯:০০টায়
Cradit : ভৌতিক গল্প
Gmail : mdsazumia6432@gmail.com 

#ভৌতিক_গল্প #লেখক_মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সাজু #ভৌতিকগল্প #লেখকমোঃ সাখাওয়াত হোসেন সাজু #ভূত_বর_গল্পের_লিংক #ভূতের_গল্প  #লেখক_মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সাজু #ভূতেরগল্প #ambg84 #মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সাজু #ghoststory #ভূতবরগল্পেরলিংক #Horror_Story #horrorstory #bhoot #ghost #ভূত_বর #bhoutikgolpo51 #মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সাজু 84 #ভূতবর #রাতনয়টা

0 Reviews:

Post Your Review