বাসর ঘরে নতুন বউ Md Sazu Mia - Md Sazu Mia
SUBTOTAL :

Follow Us

বাসর ঘরে নতুন বউ Md Sazu Mia

বাসর ঘরে নতুন বউ Md Sazu Mia

Short Description:

Product Description

ভূত বর
প্রথম পর্ব 
#লেখক_সাখাওয়াত হোসেন সাজু

© ভৌতিক গল্প (গল্পটি এডমিনের অনুমতি ছাড়া কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যদি কেউ এডমিনের অনুমতি ব্যতিত গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করে, তাহলে সে “অমানুষ” ও চোর বলে গন্য হবে। কথাগুলো আপনাদের কাছে খারাপ লাগতে পারে, তাই দুঃখিত! কথাগুলো শুধুমাত্র চো-রদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। যাদের কাজই অন্যের গল্প কপি করে পোষ্ট করা)নিত্য-নতুন গল্প পড়তে আমাদের website  ফলো করে পাশেই থাকুন।

গল্পের শুরু এখান থেকে 👇👇
আজ অন্তরাকে ছেলেপক্ষ দেখতে আসবে। তাই দীর্ঘ সময় নিয়ে সে সাজুগুজু করে। পছন্দের নীল রঙের শাড়ীটাও পরে নেয়। এমনিতেই সে অনেক সুন্দর। গায়ের রং ফর্সা হবার পরও সে মেকআপ করেছে,মাথাভর্তি তার কুকড়া চুল। কুকড়া চুলে সুন্দর করে মাথায় সামনের অংশে টিকলি পরে নেয়।তার সাথের বান্ধবী যারা ছিল,সবাই বলতে থাকে...বাহ্ অন্তরা তোকে তো অনেক বেশি সুন্দর লাগছে। আজ তোকে পছন্দ না করে ছেলেপক্ষ যাবে না। অন্তরা বলে এখন চুপ কর তোরা। আমাকে ঠিকমতো সাজতেও দিবি না নাকি?

___দেখছিস আমি সাজুগুজু করতে ব্যস্ত আছি।কোথায় তোরা আমাকে সাহায্য করবি তা না একের পর কথা বলেই যাচ্ছিস।

___আরে আমরা আবার তোকে কি করলাম। আজ তোকে সত্যিই সুন্দর লাগছে।
___হয়েছে হয়েছে এখন দেখ আমার শাড়ির কুচি ঠিক আছে কিনা।
___সবই ঠিক আছে। এখন দুলাভাই আসার পালা।
___কি বলছিস তোরা এসব। এখনো বিয়েই হয়নি।
__হয়নি তো কি হয়েছে, ধরে নে এইবার তোর বিয়েটা হয়েই গেল।

অন্তরা তার বান্ধবীদের নিয়ে একটা রুমে বসে আছে। আকাশে মেঘের আনাগোনা। যেকোনো সময়ই বৃষ্টি হতে পারে। সবাই অধিক আগ্রহের সাথে ছেলেপক্ষের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। একসময় রাস্তার ধারে কয়েকজনকে গাড়ি থেকে নামতে দেখা যায়। কয়েকটি মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে একজন সামনে সামনে হাটে। অন্তরা সহ তার বান্ধবী একটা রুমের জানালা দিয়ে লুকিয়ে ছেলেটাকে দেখার চেষ্টা করে।একে একে সবাই বাড়িতে প্রবেশ করে। একজন বলে উঠে এই তো এই ছেলেটাই আমাদের দুলাভাই।

অন্তরা বলে উঠে উঠে,,একি ছেলে তো সাদাসিধে পোষাকেই এসেছে। আপনাদের তো ছেলেটির নামটি বলাই হয়নি। ছেলের নাম সাজু। ঘরের এক কোনে সাজু মাটির দিকে তাকিয়ে আছে। মুখে তার লজ্জার ছাপ। ছেলেটি তেমন একটা মিশুক নয়। অপরিচিত কারো সাথে কথা বলতে গেলেই তার মাঝে জড়তা কাজ করে। ঘরের এক কোনে খাটের একপাশে সাজু বসে আছে। সে এতো মানুষের মাঝে বারবার কনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কখন যে কনেকে নিয়ে আসবে। ততক্ষণে বাড়ির লোকজন খাবার রেডি করতে  ব্যস্ত।

 সাজু কনের অপেক্ষাতে চুপটি করে বসে আছে। দরজার উপাশ থেকে কারো ছায়া দেখা গেলেই সে ভাবে এই বুঝি কনেকে নিয়ে আসছে। কিন্তু পরক্ষণেই সে দেখে কনে নয়। এভাবে সাজুর মনে অনেক কৌতুহল জেগে উঠে। কখন সে কনেকে দেখবে। শুনেছে কনে নাকি দেখতে অনেক সুন্দর। একসময় অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়। দুজন মেয়ে কনেকে ধরে রুমে নিয়ে আসে। সাজু আড়চোখে কনের দিকে তাকায়। কনের দিকে তার চোখ পরতেই সে চোখজোড়া যেন সরছেই না। মেয়েটা তো তার কল্পনার চাইতেও বেশি সুন্দর।  সে কখনোই ভাবেনি তার জীবনে এতো সুন্দরী একটা পরির মতো মেয়ে তার ঘরে বউ হয়ে যাবে।

এতো এতো মানুষের ভিরে অন্তরা সাজুকে খুঁজেই পায়নি। সাজু তো অন্তরার দিকে তাকিয়েই আছে। মেয়েটা দেখতে কতো সুন্দর আর মেয়েটির উচ্চতা তাকে আরো আকৃষ্ট করেছে। এমনিতেই মেয়েটি কতো সুন্দর। তার উপর আবার মেকআপ করেছে। একসময় সবার জিজ্ঞাসাতে সাজু বলে হ্যাঁ মেয়ে আমার পছন্দ হয়েছে। তারপর দুজনের মত নিয়ে কাবিন সম্পন্ন হয়। তাদেরকে পাশের একটা রুমে ডেকে বসানো হয়। এমনিতেই সাজু লাজুক স্বভাবের। এতো মানুষের মাঝে অন্তরাকে দুইটা কথা বলবে, তাও যেন সে ভূলে গেছে। সামনের বিছানায় অন্তরা বসে আছে। সাজু তার সম্মুখে একটা চেয়ারে বসে আছে। 

তাদের দুজনের মধ্যে কেউই কথা বলে না। মাঝেমাঝে দুজনেই আড়চোখে দুজনের দিকে তাকায়। আবারো সাজু মাটির দিকে তাকিয়ে থাকে। একজন তো পাশ থেকে বলেই ফেলে ভাইয়া আপনি কি কথা কম বলেন নাকি। সাজু তার কথায় আস্তে জবাব দেয় দেখুন এখানে আপনারা সবাই আমার অপরিচিত ও অচেনা। তাই কথা বলতে একটু নার্ভাস লাগছে। আর আমি এমনিতেই কথা কম বলি। অন্তরা ও সাজুর চোখাচোখি যেন শেষ হয়না। পাশ থেকে একজন বলে উঠে ভাইয়া আপনি অন্তরাকে কিছু তো জিজ্ঞেস করুন। সাজু অন্তরার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে জিজ্ঞেস করে আপনার নাম কি? 

সাজুর মুখে এই প্রশ্ন শুনে অন্তরা আস্তে করে জবাব দেয় জ্বি আমি অন্তরা। সাজু বলে বাহ সুন্দর নাম তো আপনার। একথা বলতেই তাদের কথা যেন শেষ হয়ে যায়। সাজু এতো মানুষের ভিড়ে ইতস্ততবোধ করছে। একসময় বিয়ের দিন_ক্ষন ঠিক হয়। সামনের শুক্রবার তাদের বিয়ে। বাড়ি থেকে সবাই চলে গেলেও সাজু তখনো সেখানেই রয়ে গেল। অবশেষে অন্তরার কাছে বিদায় নিয়ে সে বাড়ি ফিরে যায়। সাজু মনে মনে অনেক খুশি। আল্লাহ তার জীবনে এতো সুন্দরী একটা মেয়েকে জীবনসঙ্গী করেছে। সে মোবাইলে বার বার অন্তরার ছবি দেখতে থাকে। মেয়েটা নীল শাড়িতে পরির মতোই লাগছে। পার্থক্য শুধু একটা মেয়েটার ডানা নেই।

তারা দুজনেই ফোনালাপে চুটিয়ে প্রেম করে। তাতে অল্প সময়ের মাঝেই তারা দুজনেই বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। অন্তরাও তার মনের সব কথা সাজুকে বলে। ঐ যে দেখছো আকাশের চাঁদটা, তার ঠিক পাশেই দেখো একটা তারা। যেদিন আমাদের বিয়ে হবে সেদিন এই চাঁদ ও তারা একত্রিত হবে। অন্তরার এরূপ পাগলামি আলাপ শুনে সাজু হাসে। যেই সাজুর মাঝে এতো ঝড়তা কাজ করতো। আজ সেই সাজুকে অন্তরা কতো সহজেই খুবই মিশুক বানিয়ে ফেলেছে। মেয়েটা সবসময়ই হেসে কথা বলে। অন্তরা হাসলে মনে হয় যেন হাসিতে মুক্তো ঝড়ছে। সাজু ফোনে কথা বলার সময় অন্তরাকে অনেক প্রসংশা করে। এই শোনো তোমার নামের অর্থ জানো? অন্তরা বলে জানি তবে আমি তোমার থেকে শুনতে চাই। সাজু বলে তুমি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি তোমার নামটাও সুন্দর। তোমার নামের অর্থ হলো প্রসংশা করা। 

অন্তরা সাজুকেও তার নামের অর্থ জিজ্ঞেস করে। সাজু বলে আমার নামের কোনো অর্থ নাই। তাতে অন্তরা অনেক রেগে যায়। তোমাকে মাত্র একদিনের সময় দিলাম। কালকের মধ্যে তোমার নামের অর্থ খুঁজে বের করবে। সাজু বেচারা পরেছে বিপদে। রাতেই সে গুগলে সার্চ করে তার নামের অর্থ জেনে নেয়। অন্তরা মোবাইল ফোন সম্পর্কে তেমন একটা বুঝে না। এই কদিনে অন্তরার সাথে কথা বলে সাজু জানতে পারে, মেয়েটি খুবই ভিতু। বৃষ্টি বাদলের দিন সে বজ্রপাতের শব্দ শুনেও ভয় পেয়ে যায়। একা থাকতেও সে ভয় পায়। সাজু সেটারই দূর্বলতার সুযোগ নেয়। সে বলে আচ্ছা এখন যদি আমি ভূত হয়ে তোমার কাছে আসি তোমার কেমন লাগবে। অন্তরা রেগে যায় শয়তান বলেই ফোনটা কেটে দেয়। সাজুও তখন পাগলি একটা বলে হাসতে থাকে।

বিয়ের আগের দিন অর্থাৎ গায়ে হলুদের রাতে তারা ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত। সাজু তো কথা বলতে বলতে রুম থেকে বেরিয়ে পুকুরপাড়ে চলে যায়। যদিও পুকুরপাড়ে রাতের বেলা কেউ তেমন একটা আসে না। অন্তরা ও সাজুর প্রেমালাপ যেন শেষ হয় না। অন্তরা জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা আগামীকাল যখন তুমি আমাকে নিয়ে যাবে, তখন যদি পথিমধ্যে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই তখন কি হবে। সাজু বলে কেন তুমি অজ্ঞান হবে! জবাবে অন্তরা বলে হ্যাঁ আমি কান্না করলে অজ্ঞান হয়ে যাই। তুমি এক কাজ করতে পারো আমি যখন অজ্ঞান হবো। তখন তুমি কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে করে “ভালোবাসি তোমাকে” কথাটা বলবে। দেখবে আমি স্বাভাবিক হয়ে গেছি। এভাবে তাদের কথোপকথন চলাকালীন সময়ে ফজরের আজান দিয়ে দেয়। একসময় তারা দুই পাশ থেকে বিদায় নিয়ে ফোন রাখে। পরদিন বরযাত্রী কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।

বরযাত্রী কনের বাড়িতে পোছালে খাওয়াদাওয়া ও বিয়ের কার্যাবলী সম্পন্ন হয়। একসময় কনেকে তুলে দেওয়া হয়। আর রাতের কথা মতো গাড়িতে অন্তরা অচেতন হয়ে পরে। সাজু অনেক কষ্টে অন্তরাকে সামলে নেয়। সে তো অন্তরার কানের কাছে বলতে থাকে ভালোবাসি তোমাকে। কিন্তু না অন্তরা ঠিক হয়নি। সাজু কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। কেননা সে তো কাওকে এর আগে এভাবে অচেতন হতে দেখেনি। দেখতে দেখতে তারা বাড়ির সামনে চলে আসে। বাড়ির সবাই কনেকে বরন করে বাড়িতে নিয়ে যায়। এলাকাবাসী অনেকেই বাড়িতে ভিড় জমায়। নতুন বউ দেখবে এই আশাতে। অন্তরা খেয়াল করে বাড়ির সামনে পুকুরপাড়ে বিশালাকার একটি বটগাছ।

বটগাছটি দেখেই সে জিজ্ঞেস করে বাড়ির ভেতর কেউ বটগাছ রাখে? জবাবে সাজু বলে এই কথা। গাছটি কেটে ফেলা হবে। তুমি এই নিয়ে ভেবো না। তারা বাড়ির সামনে সিঁড়িতে বসে অনেক গল্প করে। এদিকে দেখতে দেখতে সন্ধা হয়ে আসে। তারা দুজনে হাতে হাত রেখে হাটতে থাকে। তাদের দুজনেই প্রিয় মানুষের প্রথম ছোঁয়া পেয়ে দারুন অনুভূতি হয়। তারা হাতের মুঠো শক্ত করে ধরে হাটতে হাটতে পুকুরপাড়ে চলে যায়। সাজু তার নিজের বাড়িতে অনেক কিছুই ঘটতে দেখেছে। বাড়িটি দেখলে আসলেই ভূতুরে মনে হয়। অন্তরা হাত উঁচিয়ে সাজুকে বলে এই শোনো পুকুরপাড়ের ঐ গাছগুলো কেটে ফেলবে। আর বটগাছটিও। সাজু এক দৃষ্টিতে অন্তরা দিকে তাকিয়ে আছে। 

তখনই বাড়ি থেকে সাজুর মায়ের ডাক শোনা যায়। ঐ যে মা ডাকছে। চলো বাড়ি ফেরা যাক। তারা বাড়িতে চলে আসে। বাড়িতে ফিরে তারা অনেক গল্প করে। বাসর ঘরে নতুন বউকে নিয়ে সাজু জানালার কাছে গিয়ে দাড়ায়। ঘরে নতুন বউ রেখে কোনো পুরুষ  বাহিরে থাকাটা পছন্দ করবে না। সাজুর বেলায়ও তাই হলো। সে ঘরে তার নতুন বউ অন্তরাকে রেখে কোথাও যায়না। অন্তরা বিছানায় বসে আছে। হঠাৎই সাজু তাকে কাছে ডাকে। এই শোনো, একটু এদিকে আসো তো। অন্তরা বিছানা থেকে  উঠতে গিয়ে জিজ্ঞেস করে জানালার এখানে কেন? সাজু বলে তুমি জানালার কাছে আসো। তোমাকে একটা জিনিস দেখাবো। 

একটি কথা না বললেই নয়। আপনারা যখন গল্প পড়ে কমেন্ট করেন। তখন আমরা কমেন্ট গুলো দেখে নতুন গল্প লিখতে অনেক উৎসাহিত হই। আপনাদের কমেন্ট আমাদেরকে নতুন গল্প লিখতে অনুপ্রাণিত করে। আর আমরা সবসময়ই আপনাদের কমেন্ট গুলো পড়ে থাকি। সময় পেলে রিপ্লাই দেওয়ারও চেষ্টা করি। তাই সকলের কাছে হাতজোড় করে বলছি গল্পটি পড়ার পর কমেন্টে একটা রিভিউ দিয়ে যাবেন। আমরা আপনার থেকে একটি রিভিউ আশা করছি।

রুমের যে পাশে জানালার প্রান্তে সাজু দাড়িয়ে আছে, জানালার বাহিরে জলাশয়। অন্তরা ভাবে বাহিরে কি আছে যা সাজু তাকে দেখার জন্য সেখানে ডেকেছে! সাজু তখনও অন্তরাকে ডেকে বলছে জলদি আসো। একটা জিনিস দেখে যাও। অন্তরা অবাক হয়ে ভাবে জানালার বাহিরে তো জলাশয়। তাহলে সেখানে আবার কি আছে!  সে ভয়ে ভয়ে আছে। জানালার বাহিরে কি না কি আছে! অন্তরা কাছে যেতেই, সাজু তার একটা হাত ধরে জানালার বাহিরে তাকিয়ে বলতে থাকে প্রিয়তমা ঐ যে দেখো, পানিতে কতো সুন্দর একটা চাঁদ দেখা যাচ্ছে।  অন্তরা অবাক দৃষ্টিতে  পানিতে তাকিয়ে দেখে সত্যিই তো আকাশের চাঁদের দৃশ্য সুন্দর ভাবে পানিতে প্রতিফলিত হয়েছে। অন্তরা বলে তুমি এটা আগে বললেই পারতে, আমি তো প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম।

সাজু বলে প্রিয়তমা এটা তো একটা সারপ্রাইজ ছিল। আর এখন পানিতে যে চাঁদটি দেখতে পাচ্ছো সেটার যে সৌন্দর্য। তার চেয়ে বেশি সৌন্দর্যে ভরপুর একটা চাঁদ ঠিক এই মুহুর্তে আমার ঘরের ভেতর আছে। আর সেটা হলে তুমি। এসব কথা শুনে অন্তরা খুশি হয়ে বলতে থাকে বাহ্ তুমি তো খুবই রোমান্টিক। আর ঠিক তখনই জানালার বাহিরে রেইনট্রি কড়ই গাছের বড় একটি ডাল ভেঙ্গে মাটিতে পরে যায়। ডাল ভাঙ্গার আওয়াজ শুনে অন্তরা ভয়ে সাজুকে জড়িয়ে ধরে। সাজু বুঝতে পারে অন্তরা সত্যিই ভয় পেয়েছে। সে অন্তরাকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলতে থাকে তুমি একটু এখানে দাঁড়াও। আমি বাহিরে গিয়ে দেখে আসি সেখানে কি হলো। অন্তরা বলে না তুমি বাহিরে যাবে না। আমার কিন্তু ভয় করছে।

সাজু তাকে নির্ভয়ে বলে তুমি ভয় পাবে না বললাম। আমি যাবো আর আসবো। সাজু ঘর থেকে বেরিয়ে চলে যায় সেই রেইন্ট্রি গাছের নিচে। অন্তরা তখনও জানালা দিয়ে রেইনট্রি গাছের দিকে তাকিয়ে আছে। সাজু সেখানে গিয়ে কোনো কিছু না পেয়ে চলে আসে। অন্তরা জিজ্ঞেস করলে সাজু জবাব দেয় কিছুই তো পেলাম না। এমনকি সেখানে কোনো ডালও পেলাম না। অন্তরা ভয় পাচ্ছে। এতো আওয়াজে ডাল ভেঙ্গে পরলো আর এখন কিনা গাছতলায় কোনো ডাল নেই। সাজু বলে চলো আমরা শুয়ে পরি। অনেক দিনের অপেক্ষার পর আমাদের বাসর রাত আজ। অন্তরা বলে তুমি এখনি শুয়ে পরবে? সাজু বলে হ্যাঁ আমার আর ভালো লাগছে না। আমি চাই আজকের এই রাতটা আমরা সুন্দর ভাবে কাটাই। সাজু রুমের লাইট অফ করে অন্তরার একটা হাত ধরে বিছানার দিকে টানতে থাকে। অন্তরা অবাক হয়ে বলতে থাকে আজব তো তুমি এখনি লাইট অফ করলে কেন! 

সাজু বলে বেশি কথা আমার পছন্দ নয়। এখন আমরা শুয়ে পরবো। সাজুর এই কথা অন্তরার ভালো লাগেনি। কি হলো!  হাত ছাড়ো বলছি। সাজু রেগে বলে আমি তোমার স্বামী। তোমার হাত ধরার অধিকার তো আমার আছেই। এই বলে সে অন্তরাকে অন্ধকারের মধ্যেই টেনেহিচরে বিছানার কাছে নিয়ে যায়। আজ আমাদের বাসর রাত। আজ আমরা অনেক মজা করবো। হঠাৎই সাজুর মাঝে এরূপ পরিবর্তন ও তার কথা শুনে অন্তরা অবাক হয়। সে মুখে বিরক্তির ছাপ এনে বলতে থাকে দেখো আমি তোমার বউ তা ঠিক আছে। তাই বলে তুমি এমন করতে পারো না। সবকিছুরই নিয়ম আছে। সাজু রেগে গিয়ে অন্তরাকে একটা হেচকা টানে বিছানায় ফেলে দেয়। অন্তরা বলতে থাকে দেখো আমার কথাটা তো শোনো। সাজু বলে দেখো আমার এতো ধৈর্যশক্তি নেই। আমি এখন এই মুহুর্তে এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করতে পারছি না। 

অন্তরা বিছানা ছেড়ে উঠতে চাইলে সাজু তাকে ধরে রাখে। অন্তরার সৌন্দর্য তাকে আকৃষ্ট করে। সে আস্তে আস্তে অন্তরার কাছে যেতে থাকে। যেই না সে অন্তরাকে ধরতে যায় তখনি অন্তরা সরে যায়। থামো অনেক হয়েছে। সাজু বলে এই মেয়ে তোমার সমস্যা কোথায়! কেন এমন করছো। আমি যা বলছি ভালোর ভালোই তা করো। অন্তরা দ্রুত রুমের লাইট অন করে দেয়। সে বলতে থাকে দেখো আজ আমাদের বাসর রাত। আজ আমরা দুজনে একসাথে নামাজ পরবো। তারপর বাসর রাত। অন্তরার মুখে নামাজের কথা শুনতেই সাজু চমকে উঠে। নামাজ কেন ! নামাজ না পরলে হয়না? অন্তরা বলে দেখো আমরা মুসলমান। বিয়ের প্রথম রাতে আমরা দুজন একসাথে নামাজ পরবো। দুজনে মিলে আল্লাহর কাছে দোয়া করবো। 

অন্তরা জায়নামাজ হাতে নিয়ে সাজুকে বলে ওজু করে আসো আমরা এখন একত্রে নামাজ পরবো। তখন সাজু ইতস্ততবোধ করে বলে ওজু!!! অন্তরার জুরাজুরিতে সাজু ওজু করার জন্য রুম থেকে বাহিরে বের হয়। আর অন্য দিকে অন্তরা একা সাজুর জন্য অপেক্ষা করছে। এভাবে পাঁচ মিনিট কেটে যায়। সাজুর কোনো আসার নাম নেই। অন্তরা মুখে বিরক্তির ছাপ এনে বলতে থাকে এই ছেলেটা সময় বলতে কিছু বুঝেনা। নয়তো ওজু করতে এতো সময় লাগে! অন্তরা আওয়াজ করে ডাকতে থাকে, কই গো তোমার ওজু হয়েছে। সাজুর কোনো সাড়া নেই। এভাবে আরো দশ মিনিট চলে যায়। অন্তরা ভাবে বেপার কি এতোক্ষন হয়ে গেল এখনো তার খবর নেই। লোকটা কোথায় গেল।

একসময় অন্তরা হাতে টর্চ নিয়ে পাশের রুমে থাকা সাজুর ছোট বোন নিলাকে ডেকে রুম থেকে বের হয়। টিউবওয়েলের কাছে গিয়ে দেখে সেখানে সাজু নেই। নিলা জিজ্ঞেস করে ভাবি ভাইয়া কোথায় যেতে পারে? অন্তরা বলে সে তো ওজু করার জন্যই বের হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই কোথায় চলে গেল! তখনই পাশ থেকে নিলার মা বলে উঠে বউমা তুমি এই সময় বাহিরে কি করছো। তুমি এই বাড়ির নতুন বউ। রাতের বেলা তোমার বাহিরে বের হওয়া ঠিক হয়নি। জলদি রুমে যাও। সাজুর মায়ের কথায় অন্তরা অবাক হয়। সে নিলাকে রেখে দ্রুত রুমে যায়। বাড়ির সবাই মিলে সাজুকে খুঁজতে থাকে। কিন্তু সাজুকে কেউ কোথাও খুঁজে পায় না।

বাসর রাতে সাজুর এভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়াটা অন্তরার ভালো লাগেনি। সে ভাবে কেউ তো তাকে ডাকেনি পর্যন্ত। তাহলে লোকটা কোথায় গেল। নিলা ভাবি বলে ডাকতে ডাকতে অন্তরার কাছে যায়। ভাবি ভাইয়া কখন ঘর থেকে বের হয়েছিল? জবাবে অন্তরা বলে এই আনুমানিক ঘন্টা খানিক হলো সে ওজু করার জন্য বাহিরে গিয়েছিল। এটা শুনে নিলা ভাবতে থাকে এই সময়টাতে ভাইয়া কোথায় যেতে পারে। নিলা বলে আচ্ছা ভাবি আপনি এখেনেই থাকুন। আমার মনে হয় ভাইয়া তার কোনো বন্ধুর সাথে আছে। আমরা খুঁজ নিয়ে দেখি সে কোন বন্ধুর সাথে কছে। নিলার মুখে একথা শুনে অন্তরা মন খারাপ করে ভাবে আজই তাদের বিয়ের প্রথম রাত। আজ বাসর রাত। আর এভাবে বাসর রাতে সাজুর নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া। অন্তরার কিছুই ভালো লাগছে না। 

কে জানে এখন সাজু তার কোন বন্ধুর সাথে আড্ডা দিচ্ছে।  এভাবে আরো কয়েক ঘন্টা কেটে যায়। কিন্তু সাজুর কোনো খবর নেই। নিলা অন্তরার পাশে বসে আছে। অন্তরা মন খারাপ করে কান্না করতে থাকে। প্রত্যেকটা মানুষই এই রাতটি কতো মধুময় সময় কাটায়। আর তার বেলায় কিনা তার স্বামী নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। এসব ভেবে কান্না করতে থাকে। নিলা তাকে সান্তনা দেয়। ভাবি আপনি কান্না করবেন না। ভাইয়া চলে আসবে। হয়তো ভাইয়া আপনাকে কোনো বড়সড় সারপ্রাইজ দেবে। তাই তো সে এতো রাতে বাহিরে গেছে। অন্তরা কান্না করতে করতে বলে আমি চাই না এরকম সারপ্রাইজ। সে নিলাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। তার মনে নানা দুশ্চিন্তা কাজ করতে থাকে। নিলা আবারো বলতে থাকে ভাবি আপনি শান্ত হোন। ভাইয়া চলে আসবে।

চলবে….

( গল্পটির পরবর্তী অংশ আসবে আগামীকাল রাত ঠিক নয়টায়)

গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে,তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। গল্পটিতে সবার কমেন্ট আশা করছি। আপনার একটা কমেন্টই ভৌতিক গল্পকে নতুন গল্প লিখতে উৎসাহীত করবে। আমরা সবার কমেন্টই পর্যবেক্ষণ করে থাকি। আর একটা কথা, আপনার আশেপাশে পরিচিত যারা ভৌতিক গল্প পড়তে পছন্দ করে। তাদেরকে ভৌতিক গল্পে আমন্ত্রন করে গল্পগুলো পড়ার সুযোগ করে দিন। যাতে তারাও গল্পগুলো পড়তে পারে। সবাইকে ভৌতিক গল্পের বেপারে জানান ও ভৌতিক গল্প পড়তে উৎসাহিত করুন। তাতে আমরা আপনাদের প্রতি চির-কৃতজ্ঞ থাকবো।

কপিরাইট: গল্পটির সমস্ত লেখায় লেখকের নিজস্ব লেখা। তাই গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। 

গল্প : ভূত বর (প্রথম পর্ব) 
প্রকাশ : ০১মে ২০২৪, বুধবার
সময়: রাত ৯:০০টায়
Cradit : ভৌতিক গল্প

#ভূতের_গল্প #ভূতবউ #highlightseveryone #foryoupageシ #ভূত_বর_গল্পের_লিংক #লেখক_সাখাওয়াত হোসেন সাজু #ভূতেরভয়ংকরগল্প #ambg84 #virals #foryou #foryourpage #সাখাওয়াত হোসেন সাজু #ভূতবরগল্পেরলিংক #Horror_Story #horrorstory #BhootFM #bhoot #ghost #viralposts #viralpage #ভূতেরগল্প #ghoststory #ভূত_বর #mdsazumia6432@gmail.com #ভূতবর #সাখাওয়াত হোসেন সাজু84











0 Reviews:

Post Your Review