Md Sazu Mia
কালোজাদুশেষ পর্ব
#মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ( সাজু )
© ভৌতিক গল্প (গল্পটি এডমিনের অনুমতি ছাড়া কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যদি কেউ এডমিনের অনুমতি ব্যতিত গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করে, তাহলে সে “অমানুষ” ও চোর বলে গন্য হবে। কথাগুলো আপনাদের কাছে খারাপ লাগতে পারে, তাই দুঃখিত! কথাগুলো শুধুমাত্র চো-রদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। যাদের কাজই অন্যের গল্প কপি করে পোষ্ট করা)নিত্য-নতুন গল্প পড়তে আমাদের website ফলো করে পাশেই থাকুন।
গল্পের শুরু এখান থেকে 👇👇
ফাহিম ভাবে, নুরি কে বেপারটা জানানো দরকার। সে নুরির বাড়িতে গিয়ে দেখে বাড়িতে কেউ নেই। বাড়ির দরজায় তালা দেওয়া। পাশের বাড়ির একটা মহিলার কাছে জানতে পারে,নুরি এখন হাসপাতালে আছে। সে খুবই অসুস্থ। তাই ফাহিম দ্রুত সেই হাসপাতালে গিয়ে দেখে নুরি বিছানায় শুয়ে আছে সে এখন কারো সাথে কথা বলতে পারছে না। ফাহিম নুরির এই অবস্থা দেখে ভেঙ্গে পরে। তাহলে এখন কি করবে সে। আচ্ছা কবিরাজের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা দরকার। ফাহিম সেদিন কবিরাজের বাড়িতে যায়। কিন্তু ভাগ্য ভালো না। কবিরাজ মশাই বাড়িতে নেই। এলাকাবাসীরা বলছে কবিরাজ নাকি ঘর বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে এখান থেকে একেবারে চলে গিয়েছে। ফাহিম তো এটা শুনে আরো ভেঙ্গে পরে। তাহলে এখন কি করা যেতে পারে।
সে চিন্তিত হয়ে বাড়ি ফিরে আসে। বাড়িতে এসে দেখে তার মা বিছানায় শুয়ে আছে। তার ছোট বোন মাথায় পানি ডালতেছে। ফাহিম তার মায়ের এ অবস্থা দেখে খুবই ভয় পেয়ে যায়। তার মা তো সুস্থই ছিল। হঠাৎই কি হয়ে গেল এখন! সেও কিছুক্ষন তার মায়ের মাথায় পানি ঢালে। কিছুক্ষণের মধ্যে তার মায়ের চেতনা ফিরে আসে। তার মা ফাহিমকে দেখে বলতে থাকে বাবা, জেরিন নামের সেই মেয়েটার সাথে তুই আর মিশবি না। মেয়েটাকে আমার সুবিধা মনে হয় না।কিন্তু তার মা এটা জানেনা যে ফাহিম এতোক্ষনে সবকিছু জেনে গেছে। ফাহিম বলে মা তুমি ঠিক আছো তো? তার মা বলে তুই আমার জন্য কোনো চিন্তা করিস না। তুই নিজের খেয়াল রাখ বাজান। ফাহিম এই মুহুর্তে ঠিক কি করবে কিছুই বুজতে পারছে না।
ফাহিম পাশের বাড়ির লিখনের সাথে দেখা হলে সবকিছু খুলে বলে। লিখন বলে তুই কোনো চিন্তা করিস না। আমি দেখছি কি করা যায়। হ্যাঁ একটা কিছু কর,আমার মাথায় কিছু ডুকছে না। লিখন বলে আমার পরিচিত একজন কবিরাজ আছে। দেখি তার সাথে কথা বলে কি বলে দেখি। এসময় তারা সেখান থেকে চলে যায়। ফাহিম রাতে তার রুমে শুয়ে আছে। শুয়ে জেরিনের কথা ভাবছে।সে ভাবতে থাকে, আমি তো জেরিনের উপর জাদু মন্ত্র করেছি শুধু জেরিন কে আমার আপন করে পাবার জন্য। তাহলে এখানে জেরিন না এসে ভয়ানক সেই জেরিন বা অবয়ব টি এলো কোথা থেকে? ফাহিমের মাথায় কিছু ডুকছে না।
আর এতোদিন আসল জেরিন তাহলে তাকে ভালোবাসেনি। এখন সে কি করবে? সবকিছু তো ঠিক আছে। তারপরেও এমন হলো কেন। তার প্রেমে জেরিন না এসে কেন একটা ভয়ানক দেখতে মেয়েটি আসলো? এটা কিভাবে হলো? এসব ভাবতে ভাবতে সে একসময় ঘুমিয়ে পরে। হঠাৎই কোনো কিছুর আওয়াজে ফাহিমের ঘুম ভাঙ্গে। সে জেগে দেখে তার রুমের এক কোন থেকে কারো কান্নার আওয়াজ আসে। ফাহিম ভালো করে কান পেতে শুনে অন্ধকারের মধ্যে তার রুমের ভেতর এক কোনে একটি মেয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে। সে এটা শুনে খুবই ভয় পায়। কান্নার আওয়াজটা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। মনে হচ্ছে, মেয়েটি কান্না করতে করতে ফাহিমের দিকে আসছে। ফাহিম ভয়ে কাথা দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে। হঠাৎই তার মনে হয়, কে যেন তার গায়ের কাথাটি ধরে টানছে। ফাহিম আরো শক্ত করে কাথাটি জড়িয়ে ধরে।
একসময় কাথায় এতো জুড়ে কোথায় টান পরে, যে ফাহিম কাথা ধরে রাখতে পারে না। সে দেখে অন্ধকারে দুটো ভয়ানক চোখ ঠিক তার সামনেই জ্বলজ্বল করছে। ফাহিম এটা দেখে খুবই ভয় পায়। একসময় ভয়ানক সেই মেয়েটি তার একটা পা ধরে টানতে থাকে। ফাহিম জুড়ে একটা লাথি দেয়, তাতে সেই ভয়ানক দেখতে অবয়বটি ছিটকে পাশে পরে যায়। ফাহিম তারাতারি বিছানা থেকে উঠে পরে।সে রুমের লাইট জ্বালাতেই দেখতে পায়,তার রুমে একটি মেয়ে দাড়িয়ে আছে। ফাহিম তার দরজা বন্ধ রুমে মেয়েটিকে দেখে খুবই ভয় পায়। এখন মেয়েটিকে কোনোদিক থেকে জেরিনের মতো লাগছে না। ভয়ানক সে মেয়ে অচেনা একটা রুপে তার সামনেই দাড়িয়ে আছে।
ফাহিম জিজ্ঞেস করে কে তুমি? আমার কাছে কি চাও? মেয়েটি বলে ,,,হাহাহাহা তুই না আমাকে ভালোবেসেছিলি। আমাকে নিয়ে ঘর বাধার স্বপ্ন দেখেছিলি। তাহলে আজ তুই আমাকে জিগ্যেস করছিস,আমি কে? হাহাহাহা আমি তো তোর সে ভালোবাসার মানুষ। তুই ই তো আমাকে তোর কাছে এনেছিস। আমি তোর কাছেই থাকবো এখন থেকে বলেই মেয়েটি ভয়ানকভাবে হাসতে থাকে। ফাহিম বলে চুপ করো। আমি জেরিনকে ভালোবাসি। জেরিনকে ছাড়া আমি বাঁচবো না। ভয়ানক সেই মেয়েটি রহস্যজনক একটা হাসি দিয়ে বলে, ও তাহলে এই কথা। ঠিক আছে, তাহলে আমি জেরিনকে মে*রে ফেলব বলে আবারো সেই ভয়ানক মেয়েটি হাসতে থাকে। ফাহিম বলতে থাকে না তুমি কখনো এটা করতে পারবে না। আমি জেরিনকে ভালোবাসি।
সেই ভয়ানক মেয়েটি মুহুর্তের মধ্যে শূন্যে ভেসে উঠে। সে ভয়ানক ভাবে হাসি দিয়ে বলতে থাকে আমি যাচ্ছি, আমি যাচ্ছি তোর জেরিনকে শেষ করে দিতে। তাহলেই তো আমি চিরকাল তোর সাথে থাকতে পারবো বলেই সে আবারো হাসে হাহাহাহা। ফাহিম বলে না না, তুমি এটা করো না। আমি জেরিনকে ছাড়া বাঁচবো না। কিন্তু ভয়ানক সেই মেয়েটি ফাহিমকে ঘরে রেখেই সেখানেই অদৃশ্য হয়ে যায়। আর তখনই ফাহিমের ঘুম ভেঙ্গে যায়। সে ঘেমে গেছে। ভয়ে তার গলা শুকিয়ে গেছে। তারাতারি উঠে একগ্লাস পানি পান করে। আর তখনই তার মনে পরে সেদিন রাতের কথা। আরে সেদিন রাতে তো আমি একটা ভয়ানক স্বপ্ন দেখেছিলাম। যে স্বপ্নটি পরে সত্যি হয়েছিল। তাহলে কি আজ রাতের গল্প টিও সত্যি হতে যাচ্ছে!
ফাহিম ভয় পেয়ে যায়। কি করবে না করবে, কিছুই বুজতে পারছে না। সে একটা টর্চ নিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে পরে। পাশের বাড়ির লিখনকে ডাকলে, লিখন ঘর থেকে বের হয়ে দেখে বাহিরে ফাহিম দাড়িয়ে আছে। লিখন জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে বল? এতোরাতে ডাকলি কেন? ফাহিম বলে আমি একটা বিপদে পরেছি। তুই না সেদিন বললি আমার বেপারটা দেখবি। লিখন বলে হ্যাঁ আমার পরিচিত একজন হুজুর আছে। সে এসব বিষয়ে ভালো বুঝে। ফাহিম বলে তাহলে চল না একটু আমাকে সাহায্য কর। লিখন বলে তুই কি পাগল হয়ে গেলি নাকি?এই মাঝরাতে তুই সেই হুজুরকে পাবি? এখনতো উনি ঘুমাচ্ছেন। ফাহিম বলে ভাই আমার বিষয়ে একটু ভাব, জেরিনের কিছু হয়ে গেলে আমি বাঁচবো না
লিখন বলে ঠিক আছে চল তাহলে হুজুরের বাড়ি যাওয়া যাক। ফাহিম ও লিখন হুজুরের বাড়িতে যায়। গিয়ে দেখে হুজুর গভীর ঘুমে মগ্ন। তারা হুজুরকে ডেকে তুলে। দুজনেই হুজুরকে সালাম দেয়। ফাহিম হুজুরের কাছে সবকিছু খুলে বলে। সবকিছু শুনে হুজুর বলে, ফাহিম তুমি তো বড় অন্যায় করেছো। তুমি যা করেছো তা খুবই অন্যায়। কালোজাদু খুবই খারাপ জিনিস। এর ফল কিন্তু সবসময়ই নিতিবাচক হয়। তোমার এটা করা মোটেও ঠিক হয়নি। ফাইিম বলে হুজুর আমার ভূল হয়ে গেছে। আমাকে বাঁচান। আমার ভালোবাসার মানুষটিকে বাঁচান। হুজুরটি ফাহিমকে বলে, তুমি যদি জেরিন কে সত্যিই ভালোবাসতে,তাহলে এই কালোজাদুর মতো খারাপ পথে পা বাড়াতে না। এটা আবার কেমন ভালোবাসা, আর জোড় করে তো ভালোবাসা হয় না। তুমি কি জানো, যে কাজটি তুমি করেছো,তার পরিনাম কতো ভয়ানক হতে পারে। ফাহিম বলে হুজুর আমাকে যা বলার পরে বলবেন। এখন জেরিনকে বাঁচান আপনি।
হুজুর পোষাক পড়ে তাদের সাথে জেরিনের বাড়ির উদ্দেশ্য রওয়ানা দেয়। তখন মাঝরাত। এতো রাতে কোনো রিক্সা ও গাড়ি না পেয়ে তারা পায়ে হেঁটেই জেরিনের বাড়ি পৌছায়। জেরিনের বাড়িতে প্রবেশ করেই তারা দেখে বাড়িতে অনেক মানুষের ভিড়। তারা দেখে সেখানে জেরিন বিছানায় নেই। জেরিনের জায়গায় সেই ভয়ানক দেখতে মেয়েটি শুয়ে আছে। এটা দেখেই তো লোকজন সব এখানে ভিড় করেছে। সবাই হুজুরকে দেখে সাইড দেয়। হুজুর ভয়ানক দেখতে মেয়েটির কাছে যায়। এদিকে জেরিনকে না দেখতে পেয়ে তার বাবা মা সহ পরিবারের সবাই কান্নাকাটি করছে। মা জেরিন, তুই কোথায় গেলি। মা ফিরে আয়। কিন্তু চারপাশে শুধু মানুষের ভিড়। জেরিনকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
ফাহিম ভাবে, সে যা স্বপ্ন দেখেছে এখন সেটা সত্যি হলো। তাকে যে করেই হোক জেরিনকে বাৃচাতে হবে। আজ তার কৃতকর্মের জন্য জেরিনের এই অবস্থা। ফাহিম ও লিখন সেখানে দাড়িয়ে আছে। হুজুর মেয়েটির কাছে গিয়ে দাড়ায়। মেয়েটিকে জিগ্যেস করে তুমি কে? আর জেরিন কোথায়? মেয়েটি উত্তর দেয় আমিই তো জেরিন। তারপরও কেন জিজ্ঞেস করছো? হুজুর বলে, ভালো করে বলছি তারাতারি বলো জেরিন কোথায়? নয়তো তুমি যেই হও না কেন,তোমাকে হঠানোর মতো ক্ষমতা আমার আছে। আল্লাহর রহমতে আমি সেই ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারি। তুমি সত্যি করে বলো,জেরিন কোথায়? একথা বলার সাথে সাথেই মেয়েটি জেরিনের শরীর থেকে বের হয়ে যায় ও শূন্যে ভাসতে থাকে। এতো এতো মানুষের ভিড়ে সেই অচেনা মেয়েটি ভয়ানক হয়ে উঠে। দেখতে খুবই ভয়ানক লাগছে। এই মাঝরাতে এরকম একটা ভয়ানক চেহারার মেয়েকে দেখে সেখানে থাকা সবাই ভয় পেয়ে যায়।
কেউ কেউ সেখান থেকে দৌড়ে পালায়। ফাহিম ও লিখন অনেক ভয় পায়। ততক্ষণে জেরিনের মা বাবার কান্না থেমে যায়। সেখানে তারা দৌড়ে জেরিনের কাছে যায়। আর এদিকে ভয়ানক সেই মেয়েটি আরো ভয়ানক হয়ে উঠে। তার মাথা থেকে র*ক্ত পরতে থাকে। মেয়েটির চুলগুলো অনেক লম্বা হয়ে যায়। এবং সেই চুলগুলো অন্ধকারের মধ্যে শূন্যে ভাসতে থাকে। হুজুর বলে কে তুমি? তুমি এখানে কি চাও? জেরিনের কাছে কেন এসেছো? একথা বলার সাথে সাথে সেই ভয়ানক দেখতে মেয়েটি ফাহিমের দিকে আঙ্গুল তুলে। সবাই তখন ফাহিমের দিকে তাকায়। হুজুর বলে ফাহিম কি করেছে?মেয়েটি বলে সেই তো আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।
হুজুর বলে ফাহিমের সাথে তোমার কিসের শত্রুতা? তুমি কে? কোথা থেকে এসেছো? ভয়ানক মেয়েটি এটা শুনে ভয়ঙ্কর ভাবে হাসতে থাকে। হাসতে হাসতে সেই হাসি তখনই কান্নায় রুপ নেয়। মেয়েটি বলে আমি তো মরেই গিয়েছিলাম,রোড এক্সিডেন্টে আমার মৃত্ু হয়। পরে আমার লাশটি পোস্ট মর্টেম করা হলেও হাসপাতালের লোকজন আমার মাথার চুলগুলো কেটে বাহিরে ফেলে দেয়। আমার লাশ দাফন করা হয় চুল ছাড়াই। ফাহিম এটা শুনে খুবই অবাক হয়। ফাহিম ভাবে, সেদিন তাহলে নুরি তার কাছ থেকে টাকা খেয়ে হাসপাতালের সামনে থেকে কুড়িয়ে পাওয়া চুলগুলো আমাকে দিয়েছিল! এটা ভাবতেই তার নুরির উপর রাগ হয়।
হুজর বলে তাহলে তোমার সাথে ফাহিমের কি সম্পর্ক?সেই ভয়ঙ্কর আত্না টি আবারো হাসে বলতে থাকে আমি তো মরেই গেছি। এই ফাহিম আমার মাথার চুলগুলো দিয়ে আবার আমাকে আমার আত্নাকে জাগিয়ে তুলেছে। এখন আমি এই ফাহিমকে ছেড়ে কোথাও যাবো না। হুজুর বললো যা কিছু হয়েছে সব ভূল হয়েছে। এখন তুমি ফাহিমের পিছু ছাড়ো। আত্নাটি বলে সে আমার চুল দিয়ে কালো জাদু করেছে। তাই আমি আবার ফিরে এসেছি। ভয়ঙ্কর সেই আত্নাটি বলতে থাকে আমি থাকলে ফাইিমের সাথে থাকবো। আর গেলেও ফাহিমকে নিয়ে যাবো। হুজুর সবকিছু শুনে বলে,তুমি এখানে থাকতে পারবে না। এটা তোমার স্থান নয়। তুমি চাইলেও এখন আর এটা সম্ভব না।
ভয়ানক সেই মেয়েটির আত্না ভয়ানক ভাবে হাসতে থাকে। ফাহিম বলে ডাইনি তুই আমার জীবনটাকে এলোমেলো করে দিয়েছিস। তোকে আমি দুচোখের সামনে দেখতে চাই না। আমি জেরিনকে ছাড়া বাঁচবো না। জেরিনই আমার সবকিছু। ভয়ানক আত্নাটি বলে তাহলে দেখ এইবার আমি কি করি..! সবার সামনে একটা বিছানায় জেরিন অজ্ঞান হয়ে পরে আছে।সেই ভয়ানক আত্নাটি মাটিতে পরে থাকা একটি লোহার শাবল নিয়ে জেরিনের দিকে তেড়ে যাচ্ছে। এটা দেখে ফাহিম দৌড়ে জেরিনের দিকে যায়। আত্নাটি জেরিনকে লোহার শাবলটি দিয়ে আঘাত করতেই যাবে তার আগেই সেখানে ফাহিম চলে আসে। আর আ*ঘা*ত*টি ফাহিমের গায়ে লাগে। চারপাশের মানুষগুলো ভয়ে চিৎকার করতে থাকে। লিখন সহ সবাই চিৎকার দেয়। ভয়ানক সেই মেয়ের আত্নাটি চমকে উঠে। কারন সে তো জেরিনকে মা*র*তে চেয়েছিল। আচমকায় আঘাতটি লাগে ফাহিমের গায়ে। তাতে আত্নাটি খুবই কষ্ট পায় ও সেখানে দাড়িয়ে থাকে।
ফাহিম সবার সামনেই আস্তে আস্তে মাটিতে লুটিয়ে পরে। সে জেরিনের একটা হাত ধরে আছে। তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। ফাহিম সেই ভয়ানক আত্নাটিকে বলতে থাকে না না জেরিনকে তুমি মে*রো না। প্লিজ জেরিন কে তুমি মে*রো না। আত্নাটি সেখানে ফাহিমের দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটির আত্নাটি চেয়েছিল জেরিনকে মে_রে ফেললে ফাহিম চিরকালের জন্য তার হয়ে যাবে। কিন্তু এখানে তো হিতে বিপরীত হয়ে গেল। ফাহিম জেরিনের হাতটা শক্ত করে ধরে, সে বলছে জেরিন তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি তোমাকে আপন করে পাওয়ার জন্য কত ঘৃনিত কাজ করেছি। আজ আমার জন্যই তুমি মরতে যাচ্ছিলে।
লিখন ও হুজুর ফাহিমের কাছে গিয়ে তাকে বলতে থাকে ফাহিম তোর কিছুই হবে না। তুই ঠিক হয়ে যাবি। তখন হুজুরটি ভয়ানক মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করে কেন তুমি ফাহিমকে আঘাত করেছো? এখন তুমি শান্ত হয়েছো? সেই আত্নাটি কিছু বলে না। শুধু অদ্ভুত চাহনিতে ফাহিমের দিকে তাকিয়ে আছে। ফাহিম ঘনঘন নিশ্বাস নিচ্ছে। একটা হাত এখনো জেরিনের হাতে ধরে আছে। ফাহিম একটা নজর জেরিনকে দেখার জন্য অনেক কষ্টে উঠে বসে। জেরিন শান্ত ভাবে শুয়ে আছে। মায়াময় একটা চেহারা নিয়ে জেরিন শুয়ে আছে। আঃ আঃ আহঃ বলেই ফাহিম সেখানেই মাটিতে লুটিয়ে পরে। আর বলতে থাকে জেরিন আমাকে ক্ষমা করে দিও বলতে বলতে ফাহিম সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। আর সাথে সাথে ভয়ানক সেই মেয়ের আত্নাটি সেখানে সবার সামনেই অদৃশ্য হয়ে যায়। ফাহিমের নিথর দেহটা মাটিতে পরে আছে। এখনো একটা হাত শক্ত করে জেরিনের হাতে ধরে আছে। সাথে সাথে জেরিনও চোখ মেলে তাকায়। দেখে আশেপাশে অনেক মানুষ। সে উঠে বসে...দেখে তার ঠিক পাশেই ফাহিমের নিথর দেহটা পরে আছে। জেরিন খেয়াল করে তার একটা হাতে ফাহিমের একটা হাত শক্ত করে ধরে আছে। জেরিন আস্তে আস্তে ফাহিমের হাতটা ছাড়িয়ে নেয়। আর এভাবেই ফাহিমেরর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে কালোজাদু গল্পটির সমাপ্তি ঘটে।
সমাপ্ত।
কিছু কথা : কালোজাদু কখনোই মঙ্গল বয়ে আনে না। যদিও কালোজাদু কতটা সত্য বা কাজ করে তা জানা নয়। তবে কালোজাদু কখনোই শুভ হয় না। তাই কখনো বাস্তবে এরকম করা একদমই উচিৎ না।
গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে, তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার একটা কমেন্টই ভৌতিক গল্পকে নতুন গল্প লিখতে উৎসাহীত করবে। কেননা আমরা আপনাদের কমেন্ট গুলো পর্যবেক্ষণ করে থাকি। আর একটা কথা, আপনার আশেপাশে পরিচিত যারা ভৌতিক গল্প পড়তে পছন্দ করে। তাদেরকে ভৌতিক গল্পে আমন্ত্রন করে গল্প পড়ার সুযোগ করে দিন। যাতে তারাও গল্পগুলো পড়তে পারে। সবাইকে ভৌতিক গল্পের বেপারে জানান ও ভৌতিক গল্প পড়তে উৎসাহিত করুন। দেশ ও দেশের বাইরে, যে যেখান থেকে ভৌতিক গল্প পড়ছেন, সবাইকে অসংখ ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন,অতিশিগ্র আবারো নতুন কোনো গল্প নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হবো।
কপিরাইট: গল্পটির সমস্ত লেখায় লেখকের নিজস্ব লেখা। তাই গল্পটি কপি করে কোথাও পোষ্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
গল্প : কালোজাদু (শেষ পর্ব)
লেখক : মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ( সাজু )
প্রকাশ : ২৬এপ্রিল ২০২৪, শুক্রবার
সময়: রাত ০৯:০০টায়
পূনঃরায় পোষ্ট : “কালোজাদু” গল্প
ক্রেডিট : ভৌতিক গল্প
Gmail : mdsazumia6432@gmail.com
#ভূতের_গল্প #কালোজাদু #ভূতেরগল্প #highlightseveryone #foryoupageシ #কালোজাদু_লিংক #rpambg19 #মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ( সাজু ) #ভূতেরভয়ংকরগল্প #virals #foryou #foryourpage #horrorstory #bhoothfm #bhoot #horror_story #ghost #কালোজাদু_ভৌতিক_গল্প #viralposts #লেখকআনোয়ারহোসেন #viralpage #viralpost #Anwar_hossain
No comments:
Post a Comment